উপরাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে দার্জিলিংয়ের যুব প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদন :
নয়াদিল্লি সফরের অংশ হিসেবে দার্জিলিংয়ের এক যুব প্রতিনিধিদল ভারতের উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেল। সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল উপরাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং দেশের উন্নয়নে অবদানের জন্য পরিচিত একটি অঞ্চল থেকে আসা তরুণদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত যুবকদের দেখে তিনি প্রশংসা করেন এবং নিজের সাংস্কৃতিক শিকড়কে সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনায় ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য প্রসঙ্গও উঠে আসে। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুবসমাজ। উদ্ভাবনী চিন্তা, সততা এবং উদ্যোগী মনোভাব নিয়ে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর বক্তব্যে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, নিজের শিকড়কে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে এগোতে হবে।

কর্মসূত্রে অন্যত্র যাওয়া স্বাভাবিক হলেও নিজের পরিচয়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দার্জিলিং অঞ্চলের প্রসঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই এলাকার অর্থনীতি মূলত চা শিল্প ও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ি ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে ভারী শিল্প সবসময় উপযুক্ত নয়।

তাই পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের প্রসার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।বিশ্বজুড়ে পরিচিত দার্জিলিং চায়ের সুনাম আরও বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব আরোপ করেন উপরাষ্ট্রপতি। প্রযুক্তির ব্যবহার, মূল্য সংযোজন এবং উদ্যোক্তা উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে এই চায়ের ব্র্যান্ড মূল্য বজায় রাখার কথা বলেন তিনি।

পাশাপাশি চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশের জন্য উন্নত পরিকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন—লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে, অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রেখে সবসময় ‘দেশ প্রথম’ ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আঞ্চলিক স্বপ্ন যেন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে মিল রেখে এগোয়—এই আহ্বানও জানান তিনি।অন্যদিকে, উপরাষ্ট্রপতির মূল্যবান পরামর্শ ও উৎসাহের জন্য প্রতিনিধিদল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এই সাক্ষাৎ তাদের কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলে জানানো হয়। সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলার উদ্যোগে দার্জিলিংয়ের তরুণরা দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করবে।