নিজস্ব প্রতিবেদন :
“পরের উপকারই প্রকৃত ধর্ম”—ভারতীয় শাস্ত্র ও মনীষীদের বাণীতে বারবার এই কথাই উচ্চারিত হয়েছে। বিশেষ করে অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতে সাহায্য করা সমাজে এক বড় মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করা হয়। সেই মানবিকতারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেল কোচবিহারে।

কোচবিহার জেলার মন্টু দাসপল্লী ১ নম্বর বাঁধপাড় এলাকার বাসিন্দা শম্পা মন্ডল দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সংসার চালাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যু হওয়ার পর দুই ছোট ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর মেয়ে রাজিকা মন্ডলের বিয়ে ঠিক হওয়ায় পরিবারে খুশির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক দুশ্চিন্তাও বাড়ে।
এই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্যের আবেদন জানানো হয় এলাকার পরিচিত সমাজসেবী ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ শঙ্কর রায়ের কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি নিজের ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেন বহু শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু ও স্থানীয় মানুষজন। অনেকে বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে এগিয়ে আসেন।
এছাড়াও কোচবিহারের এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীও এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আগের দিনই সমস্ত সামগ্রী শম্পা মন্ডলের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উপহারের মধ্যে ছিল একটি তোষক, লেপ, দু’টি বালিশ, একটি কম্বল, লাল চাদর, একটি শাল, এক বস্তা চাল, বিছানার চাদর এবং বালিশের কভার। পাশাপাশি কিছু অর্থও অতিরিক্তভাবে সংগ্রহ হওয়ায় তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচের জন্য।
এই মানবিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন আস্থা ফাউন্ডেশনের সদস্যরাও। তাঁদের সহযোগিতায় পুরো কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।পরিবারের পক্ষ থেকে যারা এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। সমাজে এ ধরনের উদ্যোগই মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা ও সহমর্মিতাকে আরও শক্তিশালী করে বলে মনে করছেন অনেকেই।

