নিজস্ব প্রতিবেদন :
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক জ্বলন্ত অধ্যায় ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন। ৯ আগস্ট ব্রিটিশ সরকার গ্রেফতার করে মহাত্মা গান্ধীকে, আর তার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র দেশ। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িও সেই আন্দোলনের ঢেউ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না।

ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে তৎকালীন মহকুমা শাসকের নির্দেশে নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী জনতার উপর গুলি চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। সেই বর্বরোচিত গুলিচালনায় প্রাণ হারান শিলিগুড়ির ছাবিলা সিং, মহাবীর সিং, শংকর সিং-সহ মোট পাঁচজন সংগ্রামী। তাঁদের আত্মবলিদান আজও শহরের ইতিহাসে অমলিন হয়ে রয়েছে।
এই গৌরবগাথাকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে শিলিগুড়ি পুর নিগম উদ্যোগ নিয়েছে নবনির্মিত ‘শহীদ স্মারক স্তম্ভ’ নির্মাণের। এসএফ রোড সংলগ্ন উর্বশী সিনেমা হলের পাশের স্থানে স্মারকটির শুভ উদ্বোধন করেন মেয়র গৌতম দেব।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি থানার সংলগ্ন পুরনো শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে ছিল। সময়ের সঙ্গে তার জৌলুস হারিয়ে গেলেও ইতিহাস হারায়নি। পুরসভার উদ্যোগে সেই স্মৃতিচিহ্নই এখন নতুন রূপে সজ্জিত। এতে শুধু শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকেও নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ১৯৪২ সালের আন্দোলনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন উপড়ে ফেলা, টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং প্রশাসনিক দপ্তরে বিক্ষোভের মতো ঘটনাও ঘটে। শিলিগুড়ি ছিল তৎকালীন সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র, ফলে আন্দোলনের কৌশলগত গুরুত্বও ছিল যথেষ্ট।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই অঞ্চলকে স্বাধীনতা সংগ্রামের মানচিত্রে বিশেষ জায়গা এনে দেয়নবনির্মিত শহীদ স্মারক স্তম্ভ তাই কেবল একটি স্থাপত্য নয়—এটি শিলিগুড়ির আত্মপরিচয়ের অংশ।
পুরসভার এই উদ্যোগে বহু নাগরিক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে এমন পদক্ষেপ যে আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে, সে আশা করছেন শহরবাসী।

