নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ি শহরের একাধিক হোটেলে শুক্রবার সকাল থেকেই চোখে পড়ল নতুন পোস্টার— বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিষেধ। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই এপার বাংলায় বিভিন্ন প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ছবি সামনে আসে। সেই আবহেই গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের আওতাধীন হোটেলগুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও মানবিক দিক বিবেচনা করে পরে সেই সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে শিথিল করা হয়। চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে আসতেন, তাঁদের ক্ষেত্রে তখন হোটেল পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ফের কঠোর অবস্থান নিল হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সকাল থেকে শিলিগুড়ি শহরের একাধিক হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে পোস্টার টাঙানো হয়।
এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে কোচবিহার থেকে মালদা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার হোটেল সংগঠনগুলিও।
এ বিষয়ে শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ জানান,
“একদিকে ভারত সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন ভিসা সেন্টার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেল পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমাদের আওতাভুক্ত প্রায় ১৮০টি হোটেলেই এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। আগে চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছিল, এবার সেটিও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিলিগুড়ি শহর জুড়ে হোটেল মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।

