উত্তরপূর্ব ভারতে কেন বাড়ছে গলব্লাডার স্টোন? শিলিগুড়িতে চিকিৎসক কৌশিক সুব্রামানিয়ানের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
গলব্লাডার স্টোন বা পিত্তথলির পাথর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষত উত্তরপূর্ব ভারতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে। এই সমস্যার পেছনে বংশগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানালেন বেঙ্গালুরুর বিশিষ্ট সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডাঃ কৌশিক সুব্রামানিয়ান।

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি শিলিগুড়িতে খবরের ঘন্টা-র মুখোমুখি হয়ে তিনি পেটের নানা অসুখ বৃদ্ধির কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।চিকিৎসকের কথায়, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এখন পেটের সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। ঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত তেলমশলাযুক্ত খাবার, জাঙ্ক ফুড ও ফাস্ট ফুডের প্রতি ঝোঁক—সবই দীর্ঘমেয়াদে হজমতন্ত্রের ক্ষতি করছে। তিনি সকলকে নিয়ম মেনে, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।

ডাঃ সুব্রামানিয়ানের মতে, শুধুমাত্র খাবারের ধরন নয়, খাবারের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদিত বা সংরক্ষিত শাকসবজি এবং বাহারি রঙ মেশানো খাবার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এসব ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না, কিন্তু পাঁচ থেকে সাত বছর পরে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া শরীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

পেটের অসুখের ঝুঁকি কমাতে তিনি একটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলেন—শাকসবজি রান্নার আগে গরম জলে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। এতে বাহ্যিক রাসায়নিকের প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলে তাঁর মত।

সব মিলিয়ে, বংশগত কারণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, কেমিক্যালযুক্ত খাদ্য ও জাঙ্ক ফুডের বাড়বাড়ন্তই গলব্লাডার স্টোন এবং অন্যান্য পেটের রোগ বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নজর রাখুন Khabarer Ghanta। বেঙ্গালুরু ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল্ট্রা লাইফ ইন এমারজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড এর সি ই ও ডাক্তার রোজি ডির আবেদনে সাড়া দিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে এই গ্যাসট্রো বিশেষজ্ঞ রবিবার শিলিগুড়ি আসেন বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য।