নিজস্ব প্রতিবেদন :
নতুন বছরের প্রথম কাজের দিনটিকে এক অনন্য মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় করে রাখল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “আশ্বাস”। ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখটি শুধুমাত্র কর্মসূচির দিনই ছিল না, ছিল স্মৃতির দিনও—সংস্থার প্রয়াত প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর এক বিশেষ মুহূর্ত।

তিল-তুলসী-জল নয়, বরং সেবামূলক কাজের মাধ্যমেই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এদিন সংস্থার সদস্যরা স্মরণ করেন সদস্যা অনিতা ভট্টাচার্যের শাশুড়ি মা স্বর্গীয়া পরী রানি চক্রবর্তী, সদস্যা বাসন্তী দত্তের প্রয়াত স্বামী অনুপম দত্ত, এবং সংস্থার সদ্যপ্রয়াত সদস্যা মাধবী মেধি রায়-কে।
স্মৃতি তর্পণের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে। সেখানে প্রায় ২৭০ জন মানুষ, যাদের অধিকাংশই শিশু, তাদের জন্য আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজের। খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, পাপড় ভাজা, আলু-ফুলকপির ডালনা, কাতলা মাছের ঝোল এবং মিষ্টি হিসেবে রসগোল্লা।
প্রয়াত অনুপম দত্তের স্মৃতিতে এই আপ্যায়নের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন তাঁর স্ত্রী ও সংস্থার সদস্যা বাসন্তী দত্ত।
প্রয়াত সদস্যা মাধবীর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে চা বাগানের ২০০ জন শিশুকে শীত থেকে সুরক্ষার জন্য টুপি ও মোজা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শীত নিবারণের উদ্দেশ্যে ১৫ জন মহিলা ও ১৫ জন পুরুষকে গায়ের চাদর তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও সদস্যরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ব্যবহারের উপযোগী পুরনো জামাকাপড়।
দিনের দ্বিতীয় কর্মসূচি ছিল জলপাইগুড়ির মোহিত নগর সংলগ্ন ‘ঠিকানা’ বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে বসবাসকারী ১৮ জন আবাসিকের জন্য তুলে দেওয়া হয়—
দেড় কুইন্টাল চাল,
৫ কেজি ছোলার ডাল,
৫ কেজি মুসুর ডাল,
৫ লিটার সর্ষের তেল,
১০০ গ্রাম কোলগেট টুথপেস্ট – ১৮টি,
৫০০ গ্রাম নিরমা ডিটারজেন্ট – ১৮ প্যাকেট।
এই সমস্ত রেশনের পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন সদস্যা অনিতা ভট্টাচার্য। পাশাপাশি আশ্বাসের তরফে প্রত্যেক আবাসিককে একটি করে চাদর এবং মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
এই বৃহৎ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন গ্রীন ভ্যালি ফাউন্ডেশন-এর প্রশান্ত সরকার ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের নিষ্ঠা ও দক্ষ পরিচালনায় মুগ্ধ হন আশ্বাসের সদস্যরা এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে কোচবিহারের এম এম রোডের পেহেনওয়া ক্লথিং স্টোর এর Pehenawa Clothing Store-এর মালিক জি. সি. বৈদ-কে। সমাজসেবামূলক কাজের কথা জেনে তিনি পাইকারি দামের উপরেও অতিরিক্ত ছাড় দেন—যা সংস্থার সদস্যদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে সদস্যা ঝুমুর গাঙ্গুলি জানান, এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারা অন্যান্য সদস্যদের তাঁরা খুবই মিস করেছেন। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে স্বপন কুমার পণ্ডিতকে, যিনি এই প্রথম কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি।
সংস্থার বাইরে থেকেও লক্ষ্মীদি, বুলন দত্ত, ঋচীক ও রঞ্জিতদের সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করা হয়।
শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ঝুমুরদেবী বলেন—
“ভালো থেকো পরী রানি দিদা, ভালো থাকবেন অনুপমদা, ভালো থেকো মাধবী। যেখানেই আছো শান্তিতে থেকো। তোমাদের স্মৃতিকে শক্তি করেই আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
সকলের সহযোগিতা ও শুভেচ্ছায় ভবিষ্যতেও যেন “আশ্বাস” মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে—এই প্রার্থনাই করেছেন সদস্যরা। পাশাপাশি সমাজের সকলের উদ্দেশে বার্তা—
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একজন মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানবিক হাত বাড়িয়ে দিন।নতুন বছর সবার জীবনে সুস্থতা, শান্তি ও ভালোবাসা বয়ে আনুক।

