স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের আবির্ভাব দিবস: সেবা, শক্তি ও মানবধর্মের মহামন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন :
স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের পবিত্র আবির্ভাব দিবস ২৯শে জানুয়ারি । এই দিনটি কেবল একটি জন্মতিথি নয়, বরং মানবসেবার আদর্শে উদ্ভাসিত এক মহান জীবনের স্মরণদিবস। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা এই মহাপুরুষ সন্ন্যাস, সাধনা ও কর্মযোগকে একসূত্রে বেঁধে সমাজকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

স্বামী প্রণবানন্দজীর জীবনদর্শনের মূল কথা ছিল— “শিবজ্ঞানে জীবসেবা”। তাঁর মতে, মানুষের সেবা মানেই ঈশ্বরের সেবা। মন্দিরে পূজার চেয়ে ক্ষুধার্তকে অন্নদান, অসহায়কে সহায়তা, বিপদগ্রস্তকে রক্ষা— এই কাজগুলোকেই তিনি প্রকৃত সাধনা বলে মনে করতেন। তাই তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন শুধু ধর্মচর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষা, চিকিৎসা, ত্রাণকার্য, নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়ন— সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।

তিনি যুবসমাজকে বিশেষভাবে আহ্বান জানাতেন শক্তিশালী, চরিত্রবান ও দেশপ্রেমিক মানুষ হয়ে উঠতে। তাঁর বাণীতে বারবার ফিরে আসে আত্মশক্তি জাগরণের কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভীরুতা নয়— সাহস, শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণই মানুষকে সত্যিকারের উন্নতির পথে নিয়ে যায়।

স্বামী প্রণবানন্দজীর দর্শনে ধর্ম ছিল বিভাজনের নয়, ঐক্যের শক্তি। জাতি, বর্ণ, ভাষা বা সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ ভুলে মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াই ছিল তাঁর শিক্ষা। তিনি দেখিয়েছেন— আধ্যাত্মিকতা মানে সংসার থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং সমাজের মধ্যেই থেকে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা।

আজ তাঁর আবির্ভাব দিবসে তাঁর আদর্শ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—আমরা কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি?
আমাদের জীবন কি শুধু নিজের জন্য, নাকি বৃহত্তর মানবসমাজের জন্যও?স্বামী প্রণবানন্দজীর জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়, নিঃস্বার্থ সেবা, শুদ্ধ চরিত্র এবং দৃঢ় মানসিক শক্তির মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত মানবধর্ম।

তাঁর আশীর্বাদ ও আদর্শ আমাদের জীবনে আলো জ্বালিয়ে রাখুক— এই প্রার্থনাই রইল।শিলিগুড়ি পুরনিগমের পক্ষ থেকে স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ-র ১৩০তম আবির্ভাব দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মেয়র গৌতম দেব এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন, সরকার।
স্থান: শিলিগুড়ি পুরনিগম।