নিজস্ব প্রতিবেদন:
শনিবার সকালটা যেন বিশেষ আনন্দে ভরে উঠল শিলিগুড়ির ক্রিকেট তারকা রিচা ঘোষের বাড়িতে।এদিন শহরে প্রবেশ করেই রিচা ও তাঁর পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে সরাসরি তাদের বাড়ি সুভাষ পল্লীতে হাজির হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রিচার ঘরে ফেরা এবং তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্যকে ঘিরে এলাকাজুড়েই ছিল উচ্ছ্বাসের আবহ।

সকাল প্রায় সাড়ে দশটার সময় শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছে যান রিচাদের বাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিষ্ট, শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রগুলির জনপ্রতিনিধিরা এবং কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। বাড়িতে ঢুকেই রিচার বাবা-মায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা সেরে নেন তাঁরা।
বাড়ির প্রধান কক্ষে শেষমেষ এসে হাজির হন রিচা—সরল হাসি, সহজাত নম্রতা আর শান্ত স্বভাব যেন তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যস্ত সূচির মাঝেও ঘরোয়া পরিবেশে মিশে যাওয়ার তাঁর ক্ষমতা বাড়ির সকলকে মুগ্ধ করল।
এরপরই শুরু হয় সম্মান জানানোর পর্ব। রিচার হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার অলংকার, রুপোর ভারত-মানচিত্র স্মারক এবং এনজিও ‘খোলা হাওয়া’র পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার চেক। রিচার মা-কে দেওয়া হয় পুষ্পস্তবক, মিষ্টি ও খাদা—সবই সৌজন্যের নিদর্শন।
পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে রিচার হালকা রসিকতায়। মিষ্টিমুখ করানোর সময় তিনি হেসে বলেন,
“আমার মিষ্টি খাওয়ার ছবি উঠলে কোচ রেগে যাবেন! ভাববেন খেলাই খেয়েছি!”
তাঁর কথায় উপস্থিত সকলে হেসে ফেলেন। পরে রিচার না হলেও তাঁর বাবাকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা।
সাক্ষাৎকারের মাঝেই রিচার চরিত্র, শৃঙ্খলা, ব্যবহার এবং খেলাধুলোর প্রতি তাঁর নিষ্ঠার উচ্চ প্রশংসা শোনা যায় অতিথিদের মুখে। বাড়ির আন্তরিকতা আর খেলার স্পিরিটে ভরা এই সংক্ষিপ্ত সফর সকলের কাছেই হয়ে ওঠে অত্যন্ত স্মরণীয়।
একদিকে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক এক ক্রিকেটার, অন্যদিকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আগত সম্মানীয় ব্যক্তিরা—এই মিলন শিলিগুড়িতে শনিবারের সকালকে এনে দিল এক অনন্য মর্যাদা ও আবেগ।

