নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত ২৯ মার্চ, রবিবার শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার গিরিশ ঘোষ সরণিতে সমাজসেবী সুকান্ত বসুর উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় এক ব্যতিক্রমী গণ উপনয়ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দশজন কিশোরকে নিয়ে আয়োজিত এই মঙ্গলানুষ্ঠান ধর্মীয় বিধি মেনেই সুসম্পন্ন হয় এবং গোটা আয়োজনটি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পালন করা হয় উপনয়নের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান। পোষাক পরিবর্তন, পুরোহিত বরণ, বিভিন্ন বিধি সম্পাদন, হলুদ কোটা, প্রায়শ্চিত্ত, গায়ে হলুদ, জলপান, মুণ্ডন ও স্নান, গেরুয়া বস্ত্র ধারণ, যজ্ঞ, পৈতা ধারণ, বীজমন্ত্র প্রদান, ভিক্ষা গ্রহণ, দণ্ড বিসর্জন, শুদ্ধিকরণ এবং নিরামিষ আহারের মতো সমস্ত নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নগর শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ ও আশ্রমের সহ-সম্পাদক স্বামী রাঘবানন্দ মহারাজ। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সুকান্ত বসু শুধু এই অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নন, সারা বছর ধরেই তিনি নিজের বাড়ি এবং বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন এই গণ উপনয়ন আয়োজনেও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
অন্যদিকে, বানারহাটের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্স সোনালী সামন্ত জানিয়েছেন, বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগান এলাকাগুলিতে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছেন সুকান্ত বসু।
তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি স্বরূপ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নিশ্চয় মিত্র’ প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে ধর্মীয় আচার, অন্যদিকে মানবিক সেবার মেলবন্ধনে সুকান্ত বসুর এই উদ্যোগ সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

