নিজস্ব প্রতিবেদক :
বছর শেষের মুখে এসে শীতের প্রকোপে কাঁপছে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে চলতি বছরের শীতলতম দিনের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় গোটা শহর। তার সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও শীতল করে তোলে।

তীব্র ঠান্ডার কারণে সকালবেলা রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কুয়াশা ও হালকা বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলেও প্রভাব পড়ে। শীতের দাপট বাড়ায় মানুষজন গরম পোশাক ও শীতবস্ত্রের উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে ঠান্ডার দাপট বজায় থাকবে এবং মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে জলপাইগুড়িতেও মঙ্গলবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। সকাল আটটা নাগাদও শহরের অধিকাংশ এলাকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়ায় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ, ফলে শীতের অনুভূতি ছিল আরও তীব্র। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে জলপাইগুড়ির পাশাপাশি ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি সহ ডুয়ার্সের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে। কয়েকদিন ধরেই জেলার প্রায় সর্বত্রই তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে জাতীয় সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের সচেতন করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও গাড়ি থামিয়ে চালকদের গরম চা ও জল খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঠান্ডায় রাস্তায় রাত কাটানো দুস্থ ও গরিব মানুষদের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ কম্বল বিতরণে এগিয়ে এসেছেন।
তবে শীতের এই আবহাওয়া উপভোগ করতেও ভুলছেন না জলপাইগুড়িবাসী। সকাল থেকেই চায়ের দোকানগুলিতে ভিড় বাড়তে দেখা যায়। কুয়াশা, ঠান্ডা হাওয়া আর গরম চায়ের আড্ডায় শীতের আমেজে মেতে উঠেছে উত্তরবঙ্গ।

