দুধিয়ায় চালু বিকল্প হিউম পাইপ সেতু — পাহাড়-সমতলের যোগসূত্রে ফের প্রাণের সঞ্চার

নিজস্ব প্রতিবেদন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হয়েছে দুধিয়ার বিকল্প হিউম পাইপ সেতু। গত কয়েক সপ্তাহের দুর্ভোগের পর সোমবার সকাল থেকেই এই নতুন সেতু দিয়ে শুরু হয়েছে স্বাভাবিক যান চলাচল। এর ফলে ফের সচল হয়েছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ, যা উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের মানুষের কাছে এক স্বস্তির খবর।

প্রসঙ্গত, গত ৫ অক্টোবর প্রবল বন্যায় বালাসন নদীর উপর অবস্থিত ১৯৬৫ সালে নির্মিত দুধিয়া সেতুটি ভেঙে পড়ে। তার পর থেকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মিরিক-শিলিগুড়ি রুট। স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকরা চরম সমস্যার মুখে পড়েন। যেখানে আগে দেড় ঘণ্টায় শিলিগুড়ি থেকে মিরিক পৌঁছানো যেত, সেখানে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছিল তিন থেকে চার ঘণ্টা—তাও অতিরিক্ত ভাড়ায়।

মানুষের এই বিপদের কথা জানার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তিনি নির্দেশ দেন, “দুধিয়ায় অবিলম্বে অস্থায়ী সেতু তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষের যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পর পূর্ত দপ্তর ও জলসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত গতিতে শুরু হয় বিকল্প সেতুর কাজ।

মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে ৪৬৮ মিটার দীর্ঘ এই হিউম পাইপ সেতুর নির্মাণ। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ১২০০ মিলিমিটার ব্যাসের ১৩২টি হিউম পাইপ, যার উপর নির্মিত হয়েছে ৭২ মিটার দীর্ঘ কজওয়ে। সেতুর প্রস্থ ৮ মিটার, ফলে ছোট ও মাঝারি যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান — “দুধিয়ার বিকল্প হিউম পাইপ সেতু নির্মাণ সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা মিরিককে ফের শিলিগুড়ির সঙ্গে যুক্ত করবে। সোমবার থেকেই এই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে।” একইসঙ্গে তিনি পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, “মাত্র ১৬ দিনে এই কাজ সম্পূর্ণ হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয় — আমরা সংকটে পাশে থাকি, কথায় নয়, কাজে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন, পুরনো সেতুর স্থানে ₹৫৪ কোটি টাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রকল্প ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন সেতু চালু হওয়ায় দুধিয়া, মিরিক, সুখিয়াপোখরি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদের মধ্যে প্রবল স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় দোকানদার দীপঙ্কর রাই বলেন, “সেতু ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের ব্যবসা প্রায় থমকে গিয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে, ফের নতুন করে জীবন ফিরে এসেছে।”

পর্যটন ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী—এই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ায় মিরিকের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে। পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “যদিও এটি অস্থায়ী সেতু, তবু যথেষ্ট শক্তপোক্তভাবে তৈরি করা হয়েছে। বর্ষার আগে অতিরিক্ত কংক্রিট লেয়ারিং ও সুরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।”

আজ বালাসনের তীরে দাঁড়িয়ে দুধিয়ার মানুষদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি—এই হিউম পাইপ সেতু যেন সত্যিই পাহাড় ও সমতলের নতুন জীবনের সেতুবন্ধন।