নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগের নতুন অধ্যায় শুরু হলো দুধিয়া সেতুর উপর দিয়ে। মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে বালাসন নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতু দিয়ে।

প্রায় ২০ দিন বন্ধ থাকার পর ফের সচল হলো এই গুরুত্বপূর্ণ রুট। দুধিয়া সেতু ভেঙে যাওয়ায় এতদিন বন্ধ ছিল বাস পরিষেবা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অস্থায়ী সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রতিশ্রুতি রেখেই মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে সেতুর নির্মাণকাজ, এবং ২৭ অক্টোবর থেকেই ছোট গাড়ি চলাচল শুরু হয়। তার পর ২৯ অক্টোবর থেকে এনবিএসটিসির বাস ফের রওনা দিল যাত্রী নিয়ে শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে।
এদিন সেতুর উপর থেকে বাস চলাচল প্রত্যক্ষ করেন এনবিএসটিসির আধিকারিক পার্থপ্রতিম রায় ও ডিভিশনাল ম্যানেজার। যাত্রী, চালক ও বাস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন পার্থবাবু। সকলেই মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই দ্রুত উদ্যোগের জন্য।
পার্থপ্রতিম রায় জানান, “এই অস্থায়ী সেতুটি ৪৬৮ মিটার দীর্ঘ, যার মধ্যে রয়েছে ৭২ মিটার হিউম পাইপ কজওয়ে। ৮ মিটার প্রস্থের এই সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ১২০০ মিমি ব্যাসের ১৩২টি হিউম পাইপ। মাত্র ১৬ দিনেই কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে নির্মিত পুরনো দুধিয়া সেতুটি সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ₹৫৪ কোটি টাকায় নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে এনবিএসটিসি প্রতিদিন তিনটি বাসে মোট ছয়টি ট্রিপ চালু রাখবে এই রুটে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যও নতুন গতি পাবে।
দুধিয়া সেতুর এই পুনর্জীবন তাই আজ উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক তৎপরতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

