শাস্ত্রীয় সুরে মোহিত দীনবন্ধু মঞ্চ — রাগিনী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রের বার্ষিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সুরসম্ভার

নিজস্ব প্রতিবেদন:
শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সুরে ভেসে উঠলো শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ। ২৭ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হয় রাগিনী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রের বার্ষিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত, নৃত্য ও বাদ্যের অনবদ্য মেলবন্ধনে সন্ধ্যার আবহ হয়ে ওঠে এক অপূর্ব শিল্পোৎসব।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে — “স্বর্গীয় ছায়া দেবের উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি” শিরোনামে, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বুলবুল বোসের মা’কে স্মরণ জানিয়ে। উদ্বোধন করেন দিল্লি থেকে আগত স্বনামধন্য সেতারবাদক পন্ডিত সুব্রত দে। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী সংগীতা চাকি, সঙ্গীত শিল্পী বর্ণালী বসু, উজ্জ্বল দত্ত, আশিষ ব্যানার্জী, নিবেদিতা ভট্টাচার্য, রাগিনীর সভাপতি নন্দিতা চক্রবর্তী ও প্রতিষ্ঠাতা বুলবুল বোস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরু পার্বতীচরণ চট্টোপাধ্যায়, পন্ডিত দেবপ্রতিম রায়, শ্রীমতী মালবিকা চক্রবর্তী ও সহেলি বসু। অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি ছিলেন বিদুষী প্রভাতী মুখোপাধ্যায়।

সন্ধ্যার সূচনায় শিশু শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে রাগ ইমন পরিবেশনে মুগ্ধ হয় দর্শকরা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ভজন, মারাঠি সঙ্গীত আভাঙ, রাগ আরানা –রিশিতা, শিংজিনী ও অনন্যা কর্তৃক, রত্না নন্দীর একক সঙ্গীত, অঙ্কিতা সাহার বেহালা বাদন এবং বুলবুল বোসের রাগ গাউতি ও ঠুমরী।

মঞ্চে আরও ছিলেন শিল্পীরা — অন্বেষা, সায়েসা, দেবারতি, দীপান্বীতা, দুর্গা, নিখিল, রাগিনী, সিদ্ধানি, সুচস্মিতা, অনুষ্কা, সুমিতা, অরুন্ধতী, শর্মীষ্ঠা, তৃষা, পামেলা, কৌশিক ও প্রিয়াংশু। তবলায় সঙ্গ দেন সুবীর ঠাকুর, ডাঃ ধ্রুপদ রায়, অপূর্ব ব্যানার্জী, পল্টু সাহা, মিঠুন সরকার ও সুদীপ চক্রবর্তী। যন্ত্রসঙ্গীতে পারকাসনে ছিলেন শঙ্কর দেবনাথ, কীবোর্ডে সুপ্রিয় ব্যানার্জী এবং হারমোনিয়ামে কমলাক্ষ মুখার্জি।

সবশেষে উপস্থিত হন বিদুষী প্রভাতী মুখোপাধ্যায় ও তাঁর কন্যা তনয়া ভাদুরী। তাঁকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক ও মানপত্র দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। মানপত্র পাঠ করেন অতনু চৌধুরী। প্রথম গান “জোছনা করেছে আরি” দিয়ে দীনবন্ধু মঞ্চ যেন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সুরের মোহনায়।

পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন দীপক দাস। চল্লিশেরও বেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে এদিন দীনবন্ধু মঞ্চ পরিণত হয় এক সুরের মহোৎসবে।

শেষে পন্ডিত সুব্রত দে তাঁর বক্তব্যে বলেন — “নতুন প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস অব্যাহত থাকুক।”
সকলে একবাক্যে প্রশংসা — রাগিনী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র ও বুলবুল বোসের এই ধারাবাহিক উদ্যোগই আগামী প্রজন্মকে সুর ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে।