নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া পোড়াঝাড় গ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে দাঁড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে শিলিগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন। গত ৫ নভেম্বর মিশনের উদ্যোগে ওই এলাকার নিঃস্ব ও অসহায় পরিবারগুলির হাতে তোষক, বালিশ ও বেডশিট তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে, ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যার পর দুর্গতদের জন্য খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার শিবিরের আয়োজন করে রামকৃষ্ণ মিশন। শুধু ত্রাণ নয়, ওই এলাকা যাতে স্বনির্ভর হয়, সে দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মিশন কর্তৃপক্ষ। পোড়াঝাড়কে ‘আদর্শ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও হয়েছে।
স্থানীয় মহিলাদের স্বনির্ভর করতে কেউ শিখছেন সেলাই, কেউ বা বিউটিশিয়ান কোর্স। রামকৃষ্ণ মিশনের বেলুড় মঠ শাখা থেকেও এই মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মিশনের সম্পাদক স্বামী বিশ্বধরানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, “সেবাই পরম ধর্ম” — এই আদর্শ নিয়েই শুরু হয়েছে তাঁদের এই উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, সেখানে চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে পাঠদানও চালু করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিলেদের পড়ার ঘর’।
অগ্রসরহীন মানুষদের শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং ত্রাণ সহায়তার মাধ্যমে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে শিলিগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন। তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কয়েকটি বড় সংস্থাও।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শকে জীবন্ত করে তুলে, রামকৃষ্ণ মিশনের এই প্রচেষ্টা আজ বহু মানুষের হৃদয়ে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে। কারণ, তাঁদের বিশ্বাস— মানুষের সেবাই ঈশ্বর সেবা।

