নিজস্ব প্রতিবেদন:
“যাহারা অন্ধ, তাহারাই প্রথম আলো দেখিবে”—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অমর বাণী যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে। যারা একদমই চোখে দেখতে পান না, আবার কারও দৃষ্টি সীমিত, সেই দৃষ্টিহীন শিল্পীরাই এবার মঞ্চে আনছেন এক অনন্য নাটক—‘রাজা’।

৯ই নভেম্বর, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে পরিবেশিত হবে এই অসাধারণ নাট্য প্রযোজনা। দৃষ্টিহীন শিল্পীদের এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে দেয়—প্রতিবন্ধকতা শরীরে, মনে নয়।
এই অনন্য উদ্যোগের আয়োজক ‘অপটোপিক শিলিগুড়ি’, যারা বহু বছর ধরে পরিবেশ সচেতনতা এবং মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে চলেছে। সংস্থার প্রধান কর্ণধার, বিশিষ্ট আইনজীবী, সমাজসেবী ও পরিবেশপ্রেমী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী জানান,“দৃষ্টি না থাকলেও যদি মন থাকে দৃঢ়, আর অনুশীলন থাকে নিয়মিত—তবে কোনও কাজই অসম্ভব নয়। এই নাটক সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক।”
নাটকটির সম্পাদনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। প্রযোজনা করেছে কলকাতার দৃষ্টিহীন নাট্যসংস্থা ‘অন্য দেশ’।
রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ মূলত অন্তর্দৃষ্টি, বিশ্বাস ও আত্মজাগরণের কাব্যিক প্রতীক। তাই দৃষ্টিহীন শিল্পীদের মুখে এই নাটক যেন আরও গভীর অর্থ বহন করে। সত্যিই, চোখে না দেখেও তারা যে কত সুন্দরভাবে অনুভব করতে পারে আলো, তা এই মঞ্চেই প্রমাণিত হবে।
একজন কবির ভাষায়, “অন্ধ নয় সে, যে আলো দেখে না—অন্ধ সে, যে আলোর মূল্য বোঝে না।”এই মঞ্চস্থ ‘রাজা’ তাই শুধু নাটক নয়—এ এক প্রেরণার উৎস, এক আশ্চর্য মানবিক বার্তা।শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে আসুন, দেখুন—চোখের অন্ধকার পেরিয়ে কীভাবে জ্বলে ওঠে অন্তরের আলো।

