শিলিগুড়ির বর্ষীয়ান লেখক গৌরিশঙ্কর ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, স্বস্তিতে শহরবাসী চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হাকিমপাড়ার বাড়িতেই বিশ্রামে প্রবীণ ভ্রমণ লেখক

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শিলিগুড়ির জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান লেখক গৌরিশঙ্কর ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার নিজ বাড়িতেই রয়েছেন, যদিও চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে তাঁকে থাকতে হচ্ছে।

গত ১১ অক্টোবর মাঝরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁকে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেই সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পরবর্তীতে বুকে এঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয় এবং ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। নার্সিংহোম থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলেও শুরুতে কয়েকদিন অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই সময় তাঁর বাড়ি যেন কার্যত একটি ছোট হাসপাতালেই পরিণত হয়।

তাঁর স্ত্রী ঝর্না ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আগের তুলনায় বেশ স্থিতিশীল রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত তিনি বিপদমুক্ত হলেও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য তাঁকে আরও কিছুদিন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশ্রামে থাকতে হবে।

শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক রাজ্যজুড়ে সুপরিচিত একজন ভ্রমণ লেখক। ভ্রমণভিত্তিক তাঁর বহু বই পাঠক মহলে গভীর সাড়া ফেলেছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

তাঁর অসুস্থতার খবরে শিলিগুড়ির পাশাপাশি দূরদূরান্তের বহু গুণমুগ্ধ মানুষ উদ্বেগে পড়লেও বর্তমানে তাঁর অবস্থার উন্নতির খবরে স্বস্তি ফিরেছে। শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ী তাঁর বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা জানান।

সাহিত্য ও ভ্রমণ জগতের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সুস্থতা কামনায় শিলিগুড়ির সর্বস্তরের মানুষ আজও প্রহর গুনছেন।