নিজস্ব প্রতিবেদন:
নারী শক্তি বা মাতৃ শক্তির জাগরণকে কেন্দ্র করে শনিবার শিলিগুড়ির সারদা শিশু তীর্থ ঘোঘোমালি শাখায় আয়োজিত হল এক বিশেষ অনুষ্ঠান—‘সপ্তশক্তি সম্বর্ধিনী’। অতীত যেমন ভারতকে বারবার এগিয়ে নিয়েছে নারী শক্তির হাত ধরে, তেমনি বর্তমান ভারতও নারীশক্তির বলেই উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে—এই ভাবনারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল এদিনের অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানের সম্পাদিকা তথা বিদ্যালয়ের আচার্যা রায়না দেবনাথ জানান, নারী শক্তির আরও বিকাশ ও জাগরণ ঘটাতেই এই আয়োজন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সূর্যসেন কলেজের অধ্যাপিকা শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস। তিনি নারীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শক্তির নানা দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, ভারতীয় নারীর অন্তর্নিহিত শক্তিই জাতির প্রকৃত ভরসা।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলোচিত হয় নারী শক্তির অন্তর্গত সাতটি গুণ— কীর্তি, শ্রী বা লক্ষ্মী, বাকচাতুর্য, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি বা ধৈর্যশীলতা এবং ক্ষমা। এই গুণাবলী কীভাবে সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে আরও বিকশিত হতে পারে, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বিভিন্ন বক্তা। পাশাপাশি পাশ্চাত্যের ভোগবাদী সংস্কৃতি যেন ভারতীয় সনাতনী সংস্কৃতির আদ্যাশক্তি মাতৃরূপ নারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে—এই বিষয়েও উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ মতামত।
অনুষ্ঠান পরিচালনা থেকে শুরু করে বক্তৃতা, সৃজনশীল উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব ক্ষেত্রেই ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবিকা মায়েরা আনন্দের সঙ্গে অংশ নেন অনুষ্ঠানে। মায়েদের নিয়ে আয়োজন করা হয় কুইজ প্রতিযোগিতা সহ নানা অনুষ্ঠান, যেখানে তাঁরা তাঁদের শ্রী, মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় তুলে ধরেন।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও আজ নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছে নারী শক্তি। এই জয়যাত্রা যাতে পাশ্চাত্যের নেতিবাচক প্রভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই বার্তাই ছিল এদিনের আলোচনার মূল সুর।
সমগ্র অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সারদা শিশু তীর্থ ঘোঘোমালি শাখার প্রধান আচার্য গোপিনাথ কর্মকার। নারীর শক্তিকে সম্মান জানিয়ে এবং সমাজে তার মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করতে ‘সপ্তশক্তি সম্বর্ধিনী’ অনুষ্ঠান এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

