নিজস্ব প্রতিবেদন :রবিবার, ২৩শে নভেম্বর শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী প্রেক্ষাগৃহের সুরেন্দ্র মঞ্চে কলাঙ্গনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি অনুরাগীরা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক বিজন ঘোষ, বাচিক শিল্পী ভাস্বতী চক্রবর্তী, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব চম্পক চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীত শিক্ষাগুরু স্বপন দে এবং ‘খবরের ঘন্টা’-র সম্পাদক সাংবাদিক বাপি ঘোষ। উদ্বোধনী সঙ্গীত, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও দীপ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। কলাঙ্গনের কর্ণধার পৃথা সেন স্বাগত ভাষণে সকল অতিথি ও দর্শকদের অভিনন্দন জানান এবং কলাঙ্গনের সদস্যারা অতিথিদের আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন।

এরপর শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব। “চিঠি…. দুটি মনের সেতুপথ” শীর্ষক এই পরিবেশনায় চিঠির মাধ্যমে মানুষের অন্তরাত্মার অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়। আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে হারিয়ে যেতে বসা চিঠির আবেগ ও মানসিক প্রশান্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন কলাঙ্গনের ছাত্রীরা কবিতার আকারে। চিঠি-কবিতা পাঠ করেন পপি কুন্ডু, ডলি ঘোষ, পূজা সাহা ও মৌসুমী সিংহ। সমগ্র পর্বটি পরিচালনা করেন শিক্ষিকা পৃথা সেন।
এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশিত হয় গীতি-নৃত্য-কবিতা আলেখ্য “আত্মার পরমাত্মীয় রবীন্দ্রনাথ”। এই পরিবেশনাটি পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও পরিচালনায় ছিলেন পৃথা সেন। ভাষ্য পাঠে অংশ নেন পৃথা সেন, মহুয়া বসু, অনিন্দ্যা ঘোষ, রেমা গাঙ্গুলি ও অলকা চক্রবর্তী। নৈবেদ্য দলের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং নৃত্য পরিবেশন করেন মন্দিরা চাকী দাস।
সবশেষে শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে পরিবেশিত হয় গীতি-নৃত্য-কথা ও কবিতার কোলাজ “যারা কাজ করে”। এই কোলাজের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন পৃথা সেন। এতে অংশগ্রহণ করেন সুপ্তি শূঁর রায় সেন, তানিয়া দস্তিদার, শোভনা দে ও শর্বরী ঘোষ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী সত্যজিৎ মুখোপাধ্যায়।
এই কোলাজে নৃত্য পরিবেশন করেন জাতবেদা ও সম্প্রদায়, শুভব্রত দাস, শিশু শিল্পী মিশিকা দাস, তমিশ্রা বেরা, প্রীতি সিংহ
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন সুদীপা সরকার।
উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জ্যোতির্ময় সেন অসাধারণ সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
এছাড়া কথামঞ্জরীর শিল্পীরা একটি আলেখ্য ও সপ্তক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্র সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে।সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চাালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী জুঁই ভট্টাচার্য।

