ময়নাগুড়িতে চর্চার কেন্দ্র ‘সেফটিপিন ম্যান’, অভিনব সাজেই মানুষের নজর কাড়লেন অধীর বর্মন

নিজস্ব প্রতিবেদন :
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে সম্প্রতি এক অভিনব ব্যক্তিত্বকে ঘিরে জমে উঠেছে কৌতূহলের আবহ। রাস্তার ধারে ভিড়, কৌতুহলী দৃষ্টির মাঝে যাঁকে ঘিরে এমন আলোচনা, তিনি এখন পরিচিত ‘সেফটিপিন ম্যান’ নামে। তাঁর আসল নাম অধীর বর্মন। বাড়ি আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা এলাকার মশলাপট্টিতে।

আগে অন্য একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও লাভজনক না হওয়ায় তা ছেড়ে দেন অধীর। এরপর জীবিকার খোঁজে শুরু করেন সেফটিপিন বিক্রির কাজ। তবে সাধারণ বিক্রেতাদের থেকে তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছে তাঁর ব্যতিক্রমী সাজপোশাক। তাঁর জামা, প্যান্ট, টুপি থেকে শুরু করে চশমা—সবখানেই গাঁথা অসংখ্য সেফটিপিন। সারা শরীরে এই সেফটিপিন লাগিয়েই তিনি ঘোরেন হাটে-বাজারে, গ্রাম থেকে গ্রামে।

এই অভিনব রূপের কারণেই মানুষ তাঁকে আদর করে ডাকেন ‘সেফটিপিন ম্যান’। ছোটদের কাছে তিনি ‘সেফটিপিন দাদু’। হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলেন অধীর, ছবিও তোলেন অনেকে। কৌতূহলী মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে জনপ্রিয়তা।

ফালাকাটা থেকে সেফটিপিন বিক্রি করতে তিনি এখন এসেছেন ময়নাগুড়ি। অধীর জানালেন, গত তিন বছর ধরে ডুয়ার্স এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে এভাবেই শরীরজুড়ে সেফটিপিন লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হাট-বাজারে সেফটিপিন বিক্রি করেই চলে তাঁর সংসার। তাঁর কথায়, “যা বিক্রি হয়, তাতেই দিন চলে যায়। আনন্দ নিয়ে এই কাজটাই করি।”

অভিনব আইডিয়া ও আলাদা স্টাইলের মাধ্যমে সাধারণ সেফটিপিন বিক্রিকে তিনি যেন এক অনন্য পরিচয়ে রূপ দিয়েছেন, যা এখন ময়নাগুড়ির চর্চার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।