শিলিগুড়িতে আবারও আগমন মানবদরদী সদগুরু দেবানন্দ মহারাজের — আধ্যাত্মিক সৎসঙ্গ, সেবার মহৎ বার্তা ও নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদন:
মানবসেবায় ব্রতী, আধ্যাত্মিক শক্তির ধারক সদগুরু স্বামী দেবানন্দ মহারাজ আবারও শিলিগুড়িতে পদার্পণ করেছেন। শনিবার রাতে গুয়াহাটি থেকে কলকাতা যাওপ পথে তিনি পৌঁছন শিলিগুড়ি কল্যানী অ্যাপার্টমেন্ট, সেবক রোডে। খবর পেয়ে রবিবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দূরদূরান্তের বহু ভক্তদের। শান্তি ও ইতিবাচক শক্তি পাওয়ার আশায় সকলেই তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বহু শিক্ষিত, বিশিষ্ট ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিও।

সদগুরু দেবানন্দ মহারাজ জানান, তাঁর মূল কাজ সৎ সঙ্গ ও আধ্যাত্মিক আলোচনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক শক্তিকে প্রতিহত করা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষ তো ফুল। কিন্তু মানুষ নিজের ভিতরের সেই সৌরভ ফুটিয়ে তুলতে পারছে না বলেই পুজোর জন্য গাছের ফুল ব্যবহার করছে। আসলে মানুষের ভেতরটাই সুন্দর হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সেবা মানেই আসক্তিবিহীন কর্ম—নিজেকে ভুলে অন্যের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা। মানুষের মন, দেহ, সমাজ ও পরিবেশকে বিশুদ্ধ করতে তিনি দেশজুড়ে নানা সেবামূলক কাজে যুক্ত। বর্ধমানে তাঁর বিশাল আশ্রম থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আলো, রাস্তা, চিকিৎসা ও নানাবিধ সহযোগিতা পাচ্ছেন নীরবে। পশুপাখির সেবা থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই সবই তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার অঙ্গ।
স্বামী বিবেকানন্দের কর্মবাণীকে পথনির্দেশ হিসেবে ধারণ করে তিনি ত্যাগ, সেবা ও মানবকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশ-বিদেশের বহু প্রান্তে তাঁর সাধ্যমতো সেবা পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে প্রকৃতি, মানুষ, প্রাণিজগৎ—সবকিছুই ঈশ্বরসৃষ্ট, এবং তাই সকলের সেবাই ঈশ্বরসেবা।

শিলিগুড়ি নিয়ে আশাবাদের কথা জানিয়ে মহারাজ বলেন, “এখানে বহু মানুষের প্রচুর অর্থ আছে, কিন্তু শান্তি নেই। সেই শান্তি ফিরিয়ে আনতে শিলিগুড়িতে সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।”
তাঁর কথায় শহরের জন্য আসছে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত।

সদগুরুর এই মানবদরদী মন, অন্তর্দৃষ্টি ও সৎ সঙ্গের অমৃতস্পর্শ বহু মানুষের জীবনকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। রবিবারের এই বিশেষ সফর শিলিগুড়িবাসীর কাছে তাই এক স্মরণীয় আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।