নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ববিখ্যাত জিউ-জিৎসু প্রশিক্ষক মিকো হাইটোনেনের বিশেষ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শিবির। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই শিবিরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন ছিল বুধবার। শিলিগুড়ি সেবক রোডের মারওয়ারি প্যালেসে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বহু ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করে।

দ্বিতীয় দিনেও প্রশিক্ষক মিকো হাইটোনেন অত্যন্ত যত্ন সহকারে অংশগ্রহণকারীদের আত্মরক্ষার নানা বাস্তবমুখী কৌশল শেখান। প্রতিটি কৌশল তিনি হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন, যাতে সাধারণ পরিস্থিতিতেও আত্মরক্ষার প্রয়োগ করা যায়। বিশ্বমানের প্রশিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ছিল স্পষ্ট উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস।
এই প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের জন্য সকল প্রশিক্ষণার্থী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিশিষ্ট কুডো প্রশিক্ষক সেনসি সহদেব বর্মনের প্রতি। সহদেব বর্মন জানান, ভারতের মোট আটটি স্থানে একই সময়ে এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার একটি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে শিলিগুড়ি। তিনি এই উদ্যোগকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
সেনসি সহদেব বর্মন আরও জানান, জিউ-জিৎসু মার্শাল আর্টের বিশ্বখ্যাত প্রশিক্ষক মিকো হাইটোনেনের স্পেন থেকে শিলিগুড়িতে আগমন শহরের ক্রীড়া ও মার্শাল আর্ট চর্চার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁর উপস্থিতিতে এই অঞ্চলের প্রশিক্ষণার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের স্বাদ পাচ্ছেন।
জিউ-জিৎসু এমন এক মার্শাল আর্ট, যেখানে শারীরিক শক্তির চেয়ে কৌশল, ভারসাম্য ও উপস্থিত বুদ্ধির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে দুর্বল বা কম শক্তিশালী ব্যক্তিদের জন্য। মেয়েদের আত্মনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় আত্মরক্ষার কৌশল জানা প্রতিটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ শিবির শুধু আত্মরক্ষা শেখায় না, বরং শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তাও গড়ে তোলে। তাই অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের অভিমত—ছেলে-মেয়েদের, বিশেষ করে মেয়েদের নিয়মিতভাবে এই ধরনের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সময়ের দাবি।

