নিজস্ব প্রতিবেদন:
কথায় বলে, ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না’। আমাদের চারপাশে এমন অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব নীরবে-নিঃশব্দে কাজ করে চলেন, যাঁদের অবদান আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি না। তাঁরা কোনো প্রচার বা স্বীকৃতির আশায় কাজ করেন না—শুধু নিজের কাজের প্রতি নিবেদিত থাকেন। শিলিগুড়ি শহরের এমনই এক অসাধারণ প্রতিভা হলেন কবি, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞান গবেষক নির্মলেন্দু দাস।
শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া শরৎ পল্লীতে তাঁর বাস। বয়স এখন ৭৬ বছর। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি লেখালেখি ও বিজ্ঞান গবেষণায় নিমগ্ন। একসময় আকাশবাণীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর আরও গভীরভাবে বিজ্ঞান গবেষণা এবং সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। এ পর্যন্ত তাঁর আটটিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে । এর মধ্যে জার্মানি থেকে দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে, এছাড়া আমেরিকা ও লন্ডনের নামকরা বিজ্ঞান জার্নালে তাঁর মৌলিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
এবার এই নীরব সাধককে বিশেষ সম্মান জানাতে চলেছে কলকাতা। ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মৌলালি যুব কেন্দ্র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রতিভা সন্ধানে’ পত্রিকার রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং ওয়ার্ল্ড লিটারেচার কনফারেন্স। এই মহতী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণীজনদের সঙ্গে সম্মানিত হবেন নির্মলেন্দু দাস। তাঁকে ‘বিশ্বসাহিত্য রত্ন’ (World Literature Gem) পুরস্কারে ভূষিত করা হবে এবং বিশেষ ডক্টরেট উপাধি প্রদানের কথা রয়েছে।
বর্তমানে নির্মলেন্দুবাবু তাঁর স্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী গোপা দাসের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছেন। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় পৌঁছনোর পরই এই আনন্দের সংবাদ পেয়েছেন তিনি।
এমন একজন প্রতিভার স্বীকৃতি আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করে। নির্মলেন্দু দাসের মতো নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্বরাই সমাজকে আলোকিত করেন—নীরবে, অক্লান্তভাবে।


