নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ি মিত্র সম্মিলনীর হল ঘর সোমবার সন্ধ্যায় পরিণত হয়েছিল শব্দ ও কবিতার এক অনন্য মিলনমেলায়। কবিতার ছন্দ, আবৃত্তির আবেশ আর সৃজনশীলতার উজ্জ্বল উপস্থিতিতে ভরপুর সেই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রখ্যাত কথা শিল্পী বিজয়লক্ষ্মী বর্মন। শিলিগুড়ির ২৮ বছরের পুরনো আবৃত্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ‘কবিতীর্থ’র উদ্যোগে আয়োজিত এই আবৃত্তি সন্ধ্যায় ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় জুঁই ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানের গতি ও রস দু’দিকই সুন্দরভাবে বজায় রাখেন। তাঁর দক্ষ উপস্থাপনায় মিত্র সম্মিলনীর হল ঘর পুরোপুরি দর্শক-শ্রোতায় ভরে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কবিতীর্থের খুদে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় একটি কবিতার কোলাজ দিয়ে।
বিভিন্ন কবির কবিতা অবলম্বনে এই অংশে অংশ নেয় মধুপর্না দেব, অনন্যা, স্ববর্না ভট্টাচার্য, যুবানশী, দেবায়ন, তিয়াসা সরকার ও ইন্দ্রাশীষ দাস। সংগীতে সহযোগিতা করেন বিশ্বজিৎ দাস।এরপর কবিতীর্থের অধ্যক্ষা ও বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সোমা চক্রবর্তী তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ভাবনা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
পরবর্তী পর্বে আবৃত্তি সন্ধ্যায় ‘কাহিনী কাঁথা’ ও জসিমউদ্দীন বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপহার দেন অংশুমান পাল, সোমা চক্রবর্তী, চন্দ্রা দাস, নন্দিতা ভৌমিক, পল্লবী পাল, মৌ ভট্টাচার্য, রুমা বসাক ও সোমা সাহা।সামনেই জসিমউদদীন এর জন্মদিন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতিতে সম্প্রীতির আবহ তৈরিতে সেই অনুষ্ঠান যে ভিন্ন বার্তা বহন করে তা বলাই বাহুল্য।
সবশেষে মঞ্চে উঠে প্রখ্যাত কথা শিল্পী বিজয়লক্ষ্মী বর্মন তাঁর আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর পরিবেশনায় বারবার করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা হল ঘর।অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে কবিতীর্থের বিশিষ্ট সদস্য সুব্রত দত্তকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উপস্থিত সকলেই একমত হন যে, সমাজে ইতিবাচক মনোভাব ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

