উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলায় সংবর্ধিত সঙ্গীতশিল্পী রোমি মুখার্জি, মহানন্দা বাঁচানোর বার্তা সুরে সুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ি থেকে মুম্বাই—এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সঙ্গীতজগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। তবে প্রতিভা ও নিষ্ঠার জোরে সেই কঠিন পথ অনায়াসেই অতিক্রম করেছেন শিলিগুড়ির কৃতী সঙ্গীতশিল্পী রোমি মুখার্জি। ইংরেজি নববর্ষের সূচনালগ্নে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়।

শিলিগুড়ির নিরঞ্জন নগরের বাসিন্দা রোমি মুখার্জির হাতে পৌষ মেলার মঞ্চে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন মেলা কমিটির সদস্য দেবাশীষ ঘোষ, শঙ্কর হাজরা, পার্থ সরকার, অনাদি নাথ দলুই প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী জুই ভট্টাচার্য।

সংবর্ধনা এবং মেলা কমিটির আন্তরিক আয়োজনের জন্য সাধারণ সম্পাদিকা জ্যোৎস্না আগরওয়ালা সহ সকল সদস্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রোমি।অনুষ্ঠান মঞ্চে রোমি মহানন্দা নদী রক্ষার বার্তা নিয়ে তাঁর সুরারোপিত দুটি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলার উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মহানন্দা নদী বাঁচানোর আন্দোলনও শুরু হয়েছে।

প্রতি পূর্ণিমা তিথিতে নদী রক্ষার সংকল্পে মহানন্দা আরতির আয়োজন করা হয়। সেই আন্দোলনের প্রতি সঙ্গীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানান রোমি মুখার্জি।মেলা কমিটির তরফে জ্যোৎস্না আগরওয়ালা ও বিদ্যাপতি আগরওয়ালা জানান, উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলার মাধ্যমে তাঁরা শুধু সংস্কৃতি ও সমাজসেবামূলক কাজেই সীমাবদ্ধ নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের কৃতী মানুষদের সম্মাননা প্রদানও তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

বছরের শুরুতেই বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির সূর্য সেন পার্ক সংলগ্ন মহানন্দা নদীর চরে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলা চত্বরে ভিড় উপচে পড়ে। দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্য মেলায় চালু হয়েছে সেলফি জোন, যেখানে আনন্দের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষকে। শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ও যোগাসন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি নানা হস্তশিল্প সামগ্রী, পিঠেপুলির স্টল, সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের দোকান বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি রয়েছে নাগরদোলা সহ শিশুদের বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জমজমাট হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলা, যা চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।