নিজস্ব প্রতিবেদক :
নদী ও প্রকৃতি রক্ষাকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন একদল সংস্কৃতিকর্মী। তাঁদের উদ্যোগে চলছে ‘নদীর কাছে চলো’ ও ‘নদীর কাছে এসো’ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি। কোথাও নদীকে ঘিরে কবিতা পাঠ, আবার কোথাও নদীর কথা তুলে ধরে গান বাঁধার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠছে নদী বাঁচানোর আন্দোলন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী শহর বালুরঘাটে এভাবেই ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা।
বালুরঘাটের বিশিষ্ট শিক্ষক, নদী গবেষক ও বাচিক শিল্পী তুহিন শুভ্র মণ্ডল সম্প্রতি শিলিগুড়িতে এসে খবরের ঘন্টা-কে নিজের অভিমত জানান।
তিনি বলেন, “পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে নদী ও প্রকৃতিকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। নদীগুলি যদি একে একে মৃতপ্রায় হয়ে ওঠে, তবে সভ্যতার অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।” তাঁদের দিশারী সঙ্কল্পের উদ্যোগেই বালুরঘাটে গড়ে উঠেছে ‘আত্রেয়ী বাঁচাও আন্দোলন’, যা আজ নদী রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
উত্তরবঙ্গের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মানচিত্রে বালুরঘাট এক বিশেষ মর্যাদার স্থান অধিকার করে আছে। এই শহরকে অনেকেই নাটকের শহর বলে চেনেন। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মন্মথ রায়, হরিমাধব মুখোপাধ্যায়-এর মতো কৃতী মানুষ।
পাশাপাশি প্রয়াত সাহিত্যিক ও অধ্যাপক মধুপর্ণী পত্রিকার মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক সাহিত্যচর্চার দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিলেন, তাঁর কর্মভূমিও ছিল বালুরঘাট।তুহিন শুভ্র মণ্ডল জানান, প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর আগে যে লিটল ম্যাগাজিন ও ছোট পত্রপত্রিকার আন্দোলন এই শহরে গড়ে উঠেছিল, তা আজও সমান তালে চলছে।
মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল সংস্কৃতির দাপটে যখন বহু জায়গায় লিটল ম্যাগাজিনের ধারা সংকটে, তখন বালুরঘাটের প্রকাশনাগুলি সমাজকে এক ভিন্ন বার্তা দিয়ে চলেছে। কারণ নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মননশীল ভাবনার বিকাশে লিটল ম্যাগাজিনগুলির ভূমিকা আজও অপরিসীম—এমনটাই মনে করেন তুহিনবাবু।নদী রক্ষা থেকে সাহিত্যচর্চা—সব মিলিয়ে বালুরঘাট আজও প্রমাণ করে দিচ্ছে, সংস্কৃতিই পারে সমাজকে সচেতন ও মানবিক করে তুলতে

