নিজস্ব প্রতিবেদক :
উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কার্যত স্থবির জনজীবন। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে গোটা জেলা, সঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা সাধারণ মানুষের।

শীতের হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে জেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষকে। চায়ের দোকানগুলিতে ভিড় বেড়েছে, শরীর গরম করতে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন পথচলতি মানুষজন। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে চাইছেন না অনেকেই। এর প্রভাব পড়েছে বাজারহাটেও—দোকানপাট খুলছে আগের তুলনায় অনেক দেরিতে।
গত কয়েক দিন ধরেই জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি জলপাইগুড়িতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮২ শতাংশ। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের কোনও তথ্য নেই।
শীতের এই আমেজে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পিকনিকের মুডে জেলাবাসীর একাংশ বেরিয়ে পড়ছেন খোলা প্রকৃতির টানে। তবে অন্যদিকে, তীব্র ঠান্ডায় বহু অসহায় মানুষকে রাস্তাঘাটে রাত কাটাতে হচ্ছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি।
জেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে চা-বাগান সংলগ্ন অঞ্চলে, চা শ্রমিক ও দু:স্থ মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিতে দেখা যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের।সব মিলিয়ে শীতের দাপটে জলপাইগুড়িতে একদিকে যেমন উৎসব ও পর্যটনের আমেজ, তেমনই অন্যদিকে ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

