নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা গানের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতাকে আরও একবার উদযাপন করতে প্রস্তুত শিলিগুড়ি। আসন্ন ২২তম বাংলা গান উৎসবকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী প্রচার কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের প্রচার কর্মসূচির সূচনা হয় ১১ জানুয়ারি, সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে। শিলিগুড়ির চম্পাসারি এলাকার জাতীয় শক্তি সংঘ ক্লাবের হলঘরে এই প্রচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এরপর ১২ জানুয়ারি, সোমবার, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়াত বাংলা গানের বিশিষ্ট শিল্পীদের ছবি আঁকার পাশাপাশি তাঁদের জীবন ও অবদানের উপর চার লাইনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লিখতে হবে।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলা গানের ইতিহাস ও কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।বাংলা গান উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি—এই তিন দিন ধরে বৃহত্তর শিলিগুড়ি শহরে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত ২২তম বাংলা গান উৎসব। উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট শিল্পীদের পাশাপাশি অন্যান্য অতিথি শিল্পীরাও এই উৎসবে অংশ নেবেন এবং টানা তিন দিন ধরে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করবেন।
উৎসবের প্রধান মঞ্চ হবে নিবেদিতা অডিটোরিয়াম, নিবেদিতা রোড, শিলিগুড়ি প্রধান নগর ।ধারাবাহিক বাংলা গান উৎসবের তাৎপর্যএ ধরনের ধারাবাহিক বাংলা গান উৎসব কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলা সংস্কৃতি, ভাষা ও সঙ্গীতের ধারাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম। ভারতবর্ষের খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পীরাও বাংলা গান ও সঙ্গীতচর্চার গুরুত্ব বারবার তুলে ধরেছেন।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর একবার বলেছিলেন—
“বাংলা গান মানেই গভীর ভাব, কাব্যিকতা আর হৃদয়ের অনুভূতির অপূর্ব মেলবন্ধন।”বিশিষ্ট শিল্পী কিশোর কুমার–এর কথায়—“বাংলা গান আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, অনুভব করতে শিখিয়েছে।”সঙ্গীত সম্রাট এ আর রহমান বলেছেন—
“আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গীতই একটি দেশের সাংস্কৃতিক শিকড়কে শক্ত করে।”
আর জনপ্রিয় শিল্পী শান–এর মতে—
“বাংলা গানের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এমন উৎসব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”এই ভাবনাকেই সামনে রেখে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২২তম বাংলা গান উৎসব নতুন প্রজন্মের কাছে সঙ্গীতের শুদ্ধ চর্চা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ পৌঁছে দেবে—এমনটাই আশা

