নিজস্ব প্রতিবেদক :
মকর সংক্রান্তিকে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম শহর ও জঙ্গলমহলের নানা প্রান্তে বাজার–হাটে এখন উৎসবের আমেজ। সংক্রান্তি উপলক্ষে পুজোর সামগ্রী, ফলমূল, পিঠে-পুলি ও লোকাচার সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র কেনাকাটায় সকাল থেকেই উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়।মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করেই জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী টুসু পরবের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই উৎসব ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। সোমবার সকাল থেকেই ঝাড়গ্রাম শহরের বাজার ও বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে টুসু পরবের জন্য মূর্তি, ফল, পিঠে-পুলি, খই-মুড়কি-সহ নানান পুজোর সামগ্রী কিনতে ভিড় জমিয়েছেন কুমারী ও এয়োতিরা।
জঙ্গলমহল জুড়ে ধুমধাম করে পালিত হয় টুসু পরব। মূলত আদিবাসী ও মূলবাসী সমাজের অন্যতম প্রধান লোকোৎসব হলেও, মকর পরবকে ঘিরে এই উৎসবে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষ। পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতকেই টুসু পুজোর রাত হিসেবে মানা হয়। এই রাতে ফল, পিঠে, খই ও মুড়কির নৈবেদ্য সাজিয়ে সমৃদ্ধির দেবী টুসুমণির আরাধনা করেন কুমারী ও এয়োতিরা।
আজও বহু গ্রামে সারারাত ধরে টুসু গান গেয়ে দেবীকে ‘জাগিয়ে রাখার’ প্রথা অটুট রয়েছে। পরদিন দল বেঁধে গান গাইতে গাইতে নদী বা জলাশয়ে টুসু মূর্তি বিসর্জনের মধ্য দিয়েই উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।এক সময় গোটা পৌষ মাস জুড়েই চলত টুসু উৎসব। নতুন ফসল ঘরে ওঠার আনন্দে আট থেকে আশি—সবাই মেতে উঠতেন টুসু গানে। তারই চূড়ান্ত রূপ দেখা যেত মকর সংক্রান্তির দিনে, যা আজও জঙ্গলমহলের লোকসংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে সমানভাবে জীবন্ত।

