নিজস্ব প্রতিবেদক :
“যদি শান্তি পেতে চাও, তবে কারও দোষ ধরো না—দোষ দেখবে নিজের,” এই কালজয়ী বাণী রেখে গিয়েছিলেন মা সারদা। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সহধর্মিণী মা সারদাদেবীর এই জীবনদর্শনকে সামনে রেখেই সমাজে সৎ সঙ্গ ও ইতিবাচক মানসিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে শ্রী সারদা সংঘ, শিলিগুড়ি টাউন শাখা।

এরই অঙ্গ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার শ্রী মা সরণিতে অবস্থিত শ্রীমতী দেবিকা দাসের বাড়িতে সংঘের সদস্যারা একত্রিত হন। সেখানে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও ভাবদর্শন নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। কথামৃত পাঠের পাশাপাশি উঠে আসে বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মা সারদার মহিমা এবং বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠার পটভূমি।
শ্রী সারদা সংঘ শিলিগুড়ি টাউন শাখার সম্পাদিকা সঙ্গীতা নন্দী জানান, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখে চারপাশে একটি সৎ ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। মহিলারা যাতে পরনিন্দা ও পরচর্চা পরিহার করে আধ্যাত্মিক ও ইতিবাচক চর্চায় যুক্ত হন, সেই বার্তাই তাঁরা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চান।
তাঁদের বিশ্বাস, মায়েদের হাত ধরেই শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সৎ সঙ্গের বীজ রোপণ করা সম্ভব। পরিবার ও সমাজ সুস্থ হলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী ভারত গড়ে উঠবে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির এসএফ রোডের মহেশ্বরী সেবা সদনে শ্রী সারদা সংঘের শিলিগুড়ি টাউন শাখার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশু শিল্পী সৌনক ভাদুড়ি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ভূমিকায় অভিনয় করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সৌনকের মতো শিশুদের মধ্য দিয়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়াকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংঘ।অনুষ্ঠানে সমাজে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ‘খবরের ঘন্টা’-কেও উৎসাহিত করা হয়। শ্রী সারদা সংঘের এই ধারাবাহিক প্রয়াস যে সমাজ গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, এমনটাই আশা সকলের।

