বন্দেমাতরম’-এর সুরে দেশপ্রেমের আবাহন—পাতিকলোনিতে কবি সুকান্ত হাই স্কুলের রজতজয়ন্তীর সমাপ্তিতে বিশেষ নৃত্যনাট্য

নিজস্ব প্রতিবেদন :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’ একসময় পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম সৃষ্টির প্রায় দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিলিগুড়ির পাতিকলোনিতে কবি সুকান্ত হাই স্কুলের রজতজয়ন্তী বর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ হলো বিশেষ নৃত্যনাট্য ‘বন্দেমাতরম’।

১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত নান্দনিক ও আবেগঘন উপস্থাপনার মাধ্যমে বন্দেমাতরমকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলে। নেপথ্যে ভাষ্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোমা দাস। তাঁর ভাবনায় নৃত্যনাট্যটি দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। ছাত্রছাত্রীদের সাবলীল অভিনয়, নৃত্য ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে বন্দেমাতরমের ভাব ও তাৎপর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন ও ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এই উপস্থাপনা বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের নতুন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে বন্দেমাতরম নৃত্যনাট্যটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও নজরকাড়া।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঋষিন বিশ্বাস জানান, রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গত প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালন কমিটির সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নানান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাপ্তি অনুষ্ঠান ছিল সেই দীর্ঘ আয়োজনের এক স্মরণীয় পর্ব।

উল্লেখ্য, ‘বন্দেমাতরম’ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এটি জাতীয় চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় এবং আজও তা ভারতের জাতীয় গানের মর্যাদা বহন করছে। মায়ের প্রতি ভক্তি ও দেশের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ এই বন্দেমাতরম।

বন্দেমাতরম রচনার সময়কাল উনিশ শতকের সত্তরের দশক বলে ধরা হয়। সেই হিসেবে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ‘প্রায় ১৫০ বছর পূর্তি’ হয়েছে।এই ঐতিহাসিক গানকে কেন্দ্র করে কবি সুকান্ত হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এমন সৃজনশীল প্রয়াস নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের মনে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চেতনা আরও গভীরভাবে প্রোথিত করবে।