উত্তরবঙ্গে রেল উন্নয়নের নতুন দিগন্ত: তিনটি রেলপথ প্রকল্পে মিলবে গতি ও সম্ভাবনার বিস্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন :
পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গে শুরু হতে চলেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প। ‘বিকশিত বাংলা’র স্বপ্নকে সামনে রেখে রেল মন্ত্রক এই বৃহৎ অবকাঠামো কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে — রায়গঞ্জ–ডালখোলা ৪৩.৪৩ কিমি, গাজোল–ইটাহার, ২৭.২০ কিমি এবং রায়গঞ্জ–ইটাহার, ২২.১৬ কিমি– নতুন রেললাইন।

উত্তরবঙ্গের জনবহুল অঞ্চলে মালদা ও আলুয়াবাড়ির মধ্যে বিকল্প রেল সংযোগ গড়ে তুলতে এই তিনটি লাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর ফলে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে, পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলি উত্তরবঙ্গের জনজাতি অধ্যুষিত ও অপেক্ষাকৃত অনুন্নত এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
(১) রায়গঞ্জ – ইটাহার নতুন রেলপথ
দৈর্ঘ্য: ২২.১৬ কিমি
প্রাক্কলিত ব্যয়: ১২৯.৩৪ কোটি টাকা

স্টেশন: রায়গঞ্জ, রূপাহার হল্ট, দুর্গাপুর, ইটাহার
গুরুত্ব: উত্তরবঙ্গের রেল নেটওয়ার্ককে সুসংগঠিত করে উত্তর-পূর্বমুখী যাত্রী ও পণ্য পরিবহণকে আরও দ্রুত করবে
অবকাঠামো উন্নয়ন: ৬টি বড় সেতু ও ৪২টি ছোট সেতু (আরইউবি সহ)
(২) গাজোল – ইটাহার নতুন রেলপথ
দৈর্ঘ্য: ২৭.২০ কিমি

প্রাক্কলিত ব্যয়: ৮৫.৫৯ কোটি টাকা
স্টেশন: গাজোল, বাঙর হল্ট, ইটাহার
গুরুত্ব: উত্তরবঙ্গের গেজ পরিবর্তনভিত্তিক রেল নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগকে আরও মসৃণ করবে।অবকাঠামো উন্নয়ন: ১২টি বড় সেতু ও ৩৭টি ছোট সেতু (আরইউবি সহ)

(৩) রায়গঞ্জ – ডালখোলা নতুন রেলপথ
দৈর্ঘ্য: ৪৩.৪৩ কিমি
প্রাক্কলিত ব্যয়: ২৯১.৫৩ কোটি টাকা
স্টেশন: রায়গঞ্জ, বিলাসপুর হল্ট, টুনিদিঘি, করণদিঘি, ডালখোলা

গুরুত্ব: ডালখোলা ও রায়গঞ্জের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলে যাত্রার সময় কমাবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনবেঅবকাঠামো উন্নয়ন: ১৩টি বড় সেতু, ৬টি রেল ওভারব্রিজ (আরওবি), ৯৭টি ছোট সেতু ও ৩২টি আরইউবি
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে রেল অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ ভবিষ্যতে লজিস্টিক, বাণিজ্য ও জনপরিষেবা ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।