নতুন রূপে শিলিগুড়ি: বর্ধমান রোড উড়ালপুল ঘিরে যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যায়নের বড় পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
দ্রুত বদলে যাচ্ছে শিলিগুড়ির চেহারা। চম্পাসারির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যেই শহরবাসীর নজর কাড়ছে। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় এবার যুক্ত হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বর্ধমান রোড, যেখানে নির্মীয়মাণ উড়ালপুল ঘিরে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা উড়ালপুলের অংশের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। তবে রেলের তত্ত্বাবধানে থাকা অংশের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত উড়ালপুলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

শুধু যান চলাচলের সুবিধাই নয়, উড়ালপুলের নিচের ফাঁকা জায়গাকেও জনকল্যাণমূলক ব্যবহারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম। সেখানে গড়ে তোলা হবে আধুনিক পার্কিং জোন, যাতে এলাকার যানজট অনেকটাই কমে।

শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা খেলার জায়গা, প্রবীণ নাগরিকদের বসার সুব্যবস্থা, সুলভ শৌচালয় এবং সব মিলিয়ে নান্দনিক সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ। সবুজায়নের উপর জোর দিয়ে সারিবদ্ধ বৃক্ষরোপণ করা হবে, আর উড়ালপুলের পিলারগুলোকে সাজানো হবে চিত্রাঙ্কন ও শিল্পকর্মে।

এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে এবং ভবিষ্যৎ কাজের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মেয়র গৌতম দেব। তিনি জানান, শহরের যানজট সমস্যা লাঘবের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য এক নতুন বিনোদন ও স্বস্তির পরিসর তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।

এছাড়াও বিবেকানন্দ রোড সংলগ্ন যে সব দোকান আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য উড়ালপুলের দু’পাশে প্রায় দেড়শ দোকান বরাদ্দ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উড়ালপুলের নামকরণ নিয়েও রয়েছে বিশেষ ভাবনা। বাংলার দুই মহাপুরুষের নামে নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে — “রবীন্দ্র সেতু” ও “বিবেকানন্দ সেতু”। সরকারি অনুমোদন মিললেই চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।

মেয়র আশাবাদী, বাকি নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করে শিগগিরই উড়ালপুলটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। এই উড়ালপুল চালু হলে শিলিগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিময় ও সুসংগঠিত হবে বলেই মনে করছে পুর প্রশাসন।