দীনবন্ধু মঞ্চে দু’দিনের সমাবর্তন উৎসবে ফিরছে মিত্র সম্মিলনীর ঐতিহ্য

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক নাম—মিত্র সম্মিলনী। প্রতিষ্ঠার ১১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দীনবন্ধু মঞ্চে আয়োজিত হতে চলেছে দু’দিনব্যাপী সমাবর্তন উৎসব। ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে।

আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের প্রথম দিনের সূচনা হবে চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের স্মারক বক্তৃতা দিয়ে। এরপর দুই দিন ধরে বিভিন্ন নাট্যদলের একাধিক প্রযোজনা মঞ্চস্থ হবে। পাশাপাশি মিত্র সম্মিলনীর নিজস্ব পরিবেশনায় দর্শকদের সামনে আসবে তাদের প্রযোজিত নাটক ‘শ্যামের সাইকেল’।

সাংস্কৃতিক আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে থাকছে বিশিষ্ট শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।মিত্র সম্মিলনীর সভাপতি অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “১১৭ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। আশা করছি, সকলের অংশগ্রহণে এবারের সমাবর্তন উৎসবও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

কার্যকরী সভাপতি সুদীপ বাবুও স্মৃতিচারণায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, “মিত্র সম্মিলনী শিলিগুড়ির এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এক সময় সমাবর্তন উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস। দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিকরা এই মঞ্চ অলংকৃত করেছেন।”

তিনি উল্লেখ করেন, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, আশাপূর্ণা দেবী, সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতি সম্মিলনীর ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়িতে সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।সব মিলিয়ে, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির সমাবর্তন উৎসব শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি শিলিগুড়ির সংস্কৃতির উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস।