নিজস্ব প্রতিবেদক :
কাজের প্রতি সততা ও অধ্যবসায় থাকলে যে কোনো কর্মস্থলই স্বর্গসম হয়ে উঠতে পারে—তারই উজ্জ্বল উদাহরণ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পৌরসভার কমরগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র ৪৫ জন ছাত্রছাত্রী এবং তিনজন শিক্ষককে নিয়ে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট স্কুল আজ শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

স্কুল চত্বরে পা রাখলেই বোঝা যায়, এখানে পড়াশোনা কোনো চাপ নয়—বরং আনন্দের উৎস। হাসি-খুশির পরিবেশে খেলার ছলেই চলছে শেখার প্রক্রিয়া। বিদ্যালয়ের দেওয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে দেশের মহান ব্যক্তিত্বদের ছবি, বিভিন্ন ফুল-ফল-পাখির চিত্র, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতিও। রঙিন এই পরিবেশ ছোটদের কৌতূহল বাড়ায়, শেখার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার একঘেয়েমি নেই। বরং বইয়ের বিষয়বস্তু শিশুদের মনে সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে অভিনব উপায়ে। রয়েছে আধুনিক ডিজিটাল ক্লাসরুম, যেখানে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দেখানো হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ বিভিন্ন মনীষীর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র।
শিক্ষাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করতে আলো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট্ট রাস্তার আদল, ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে শেখানো হয় পথচলার নিয়ম। আবার গ্রহ-নক্ষত্রের গতি বোঝাতে গোলাকার চিত্র এঁকে খেলার ছলে শেখানো হয় মহাকাশের ধারণা।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, প্রাথমিক স্তরেই শিশুদের ভবিষ্যতের ভিত গড়ে ওঠে। তাই পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই তাদের কাছে বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়েই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। দেওয়ালের শিক্ষামূলক রঙিন ছবি এবং ডিজিটাল পর্দার আকর্ষণীয় উপস্থাপনা শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে সহজেই তারা শিখে নিতে পারে পাঠের বিষয়বস্তু।
শিক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক অভিভাবক সরকারি বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সেই প্রবণতা রুখতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। আনন্দময় পরিবেশে ছোটদের মন জয় করে ভবিষ্যতের ভিতকে আরও মজবুত করে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও শিক্ষকদের আন্তরিক ভূমিকায় সন্তুষ্ট অভিভাবকেরাও। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই এলাকার কোনো শিক্ষার্থীই পড়াশোনার জন্য সরকারি স্কুল ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দেয়নি।সব মিলিয়ে, কমরগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমাণ করে দিয়েছে—ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠা থাকলে সীমিত পরিসরেও গড়ে তোলা যায় শিক্ষার এক অনন্য পরিবেশ।

