নিজস্ব প্রতিবেদন :
কলকাতায় অনুষ্ঠিত ২য় কিডস রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দার্জিলিং জেলার প্রতিভাবান কন্যা রেসলার সায়নী বিশ্বাস ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে জেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। সায়নীর বয়স দশ বছর, ওর সাফল্য এসেছে ৩৬ কেজি বিভাগে। অল্প বয়সেই তাঁর এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, সমগ্র দার্জিলিং জেলার জন্য গর্বের মুহূর্ত।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন কোচ রাধা রমণ রায়। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মতান্ত্রিক অনুশীলন পদ্ধতি এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঠিক প্রয়োগই সায়নীর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শৃঙ্খলা, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং মানসিকভাবে দৃঢ় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোচের নির্ভুল দিকনির্দেশনা ও উৎসাহেই সায়নী আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যতে তাঁর তত্ত্বাবধানে আরও বহু প্রতিভাবান রেসলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জন করবে—এমনটাই আশা ক্রীড়ামহলের।বর্তমান সময়ে কন্যাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দার্জিলিং জেলায় মেয়েদের রেসলিং প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ, সরকারি সহায়তা কিংবা মানসম্মত অনুশীলন ক্ষেত্রের অভাব প্রকট। তবুও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে কোচ রাধা রমণ রায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। কখনও খোলা মাঠে, কখনও জঙ্গলের মধ্যে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে তিনি গড়ে তুলছেন আগামীর খেলোয়াড়।
তাঁর স্বপ্ন একটাই—আগামী দিনে, বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে, দার্জিলিং জেলার কন্যারা যেন ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের নাম উজ্জ্বল করে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মেয়েদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাঁর যে নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।

