পূর্ণিমার আলোয় তৈরি ‘ফুল মুন টি’: আলিপুরদুয়ারের চা বাগানে অনন্য উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন : বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও সবুজ চা বাগানে ঘেরা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুন্দর জেলা আলিপুরদুয়ার জেলা । এই জেলারই পরিচিত একটি চা বাগান মাঝেরডাবরি চা বাগান, যেখানে নানা ধরনের চা উৎপাদনের জন্য বাগানটি সুপরিচিত।
এখানে সাধারণত সি.টি.সি– কাটিং, ট্যুইস্টিং এবং কার্লিং পদ্ধতির চা, ফার্স্ট ফ্ল্যাশ, গ্রিন টি, ব্লু টি-সহ একাধিক ধরনের চা তৈরি করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বাগানে শুরু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ— ‘ফুল মুন টি’ নামে এক বিশেষ ধরনের চা উৎপাদন।এই চা তৈরির পদ্ধতি অন্যান্য চায়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘ফুল মুন টি’-র জন্য চা পাতা সংগ্রহ করা হয় শুধুমাত্র রাতের বেলায়। অন্ধকারে কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে শ্রমিকরা গাছ থেকে পাতা তোলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেই পাতা কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে চা তৈরি করা হয়।

চা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের সময় চা গাছ অপেক্ষাকৃত শান্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। সেই সময় পাতা সংগ্রহ করলে চায়ের প্রাকৃতিক সুবাস বা এরোমা অক্ষুণ্ণ থাকে। বিপরীতে দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় গাছ সক্রিয় থাকায় পাতা তোলার পর প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেই সুবাসের কিছুটা অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই রাতের অন্ধকারে পাতা তুলে চা তৈরি করলে তার গুণগত মান অনেক বেশি উন্নত হয়।এই বিশেষ চায়ের স্বাদ ও গন্ধ অন্যান্য চায়ের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা বলেই দাবি বাগান কর্তৃপক্ষের। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চায়ের দামও অত্যন্ত বেশি—একেক কেজির মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় কর জানান, বছরে মাত্র তিনটি বিশেষ পূর্ণিমা— কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা, বুদ্ধ পূর্নিমা, এবং দোল পূর্নিমা —এই তিন সময়েই চা পাতা সংগ্রহ করা হয়। সেই পাতা থেকেই তৈরি হয় সুগন্ধি ‘ফুল মুন টি’।
তিনি আরও জানান, ধীরে ধীরে এই চায়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এর উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চা পাতা তোলার সময় বাগানের আদিবাসী মহিলা শ্রমিকদের মধ্যে দেখা যায় এক আলাদা উচ্ছ্বাস। অনেকেই তখন নাচ-গানে মেতে ওঠেন, যা এই রাতের চা সংগ্রহের মুহূর্তকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।