নিজস্ব প্রতিবেদন :
সাহিত্য মানুষের ভাবনা ও অনুভূতির প্রবাহকে গতিশীল করে তোলে। সাহিত্য পাঠ মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে, মননকে বিকশিত করে এবং জীবনের নানা স্তরে ইতিবাচক বোধ জাগ্রত করতে সাহায্য করে। সাহিত্যের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা জীবনমুখী বার্তাগুলিকে গ্রহণ করেই মানুষ নিজের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায়।

এই লক্ষ্য ও ভাবনাকে সামনে রেখেই গত ৮ মার্চ ২০২৬ শিলিগুড়ির ফাঁড়াবাড়ি এলাকার একটি হোমস্টেতে অনুষ্ঠিত হলো ত্রিস্রোতা সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রবাহ-এর বাৎসরিক অনুষ্ঠান। এদিন এই সাহিত্য পরিবারের পত্রিকার চতুর্থ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচনও করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি অলক চক্রবর্তী, সমাজসেবী চিরঞ্জিত সূত্রধর, প্রাবন্ধিক অশেষ কুমার দাস, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখিকা ডক্টর দীপ্তি মুখার্জি এবং অধ্যাপক দীপক চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সঙ্ঘ সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা এবং উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠে অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পরিচালন সমিতির সদস্য ও সদস্যারা তাঁদের বক্তব্য এবং স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি কবি বলরাম সরকার।
এরপর পর্যায়ক্রমে সম্পাদক সুদীপ সাহা, সহ-সভাপতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি কৃষ্ণেন্দু সেন, কার্যকরী সভাপতি রঞ্জিত সাহা, সহ-সম্পাদিকা মিষ্টু দেব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিংশুক ভৌমিক, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা বেবী চক্রবর্তী, মুখ্য উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ নাগ,
অশেষ কুমার দাস, মলয় সরকার, রিঙ্কু ঘোষ, কুনাল ঘরামি, সুদেষ্ণা বোস, রাজা চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ পাল, কৃষ্ণেন্দু দাস, মিনতি দেব, শাহনাজ বানু, স্নেহা মৈত্র, সুব্রত দত্তসহ অনেকে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন।
শেষে কিংশুক ভৌমিকের সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।সমবেত উদ্যোগ, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ত্রিস্রোতা সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রবাহ আজ সমাজ, প্রকৃতি, মানবিকতা ও মূল্যবোধের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
সংগঠনের সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সকলের আশীর্বাদে এই সাহিত্যপত্র আগামী দিনে আরও বেশি সাহিত্যপ্রেমী পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছে যাবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়।

