নিজস্ব প্রতিবেদন :
বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে বীরভূমের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরে। গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় মা তারার ভোগ রান্না এবং ভাণ্ডারার আয়োজন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন ভক্তরা, রান্নার কর্মী এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত এই তীর্থক্ষেত্রে নিয়মিতভাবেই বৃহৎ পরিসরে ভোগ ও ভাণ্ডারার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্যাস সঙ্কট সেই ধর্মীয় আয়োজনকে কঠিন করে তুলেছে।তারাপীঠে বহু ভক্ত মানত পূরণ করতে কিংবা বিশেষ তিথি উপলক্ষে ভোগ বা ভাণ্ডারার আয়োজন করেন।
অনেক ক্ষেত্রেই ৫০০ থেকে ১০০০ বা তারও বেশি মানুষের জন্য রান্না করতে হয়। এত মানুষের খাবার প্রস্তুতের জন্য সাধারণত কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করা হলেও দ্রুত রান্না শেষ করতে অনেক সময় গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন রান্নার কর্মীরা।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, ভক্তরা সাধারণত দুই থেকে তিন মাস আগেই ভোগ বা ভাণ্ডারার জন্য নির্দিষ্ট দিন বুকিং করে রাখেন। সেই অনুযায়ী রান্নার কর্মী, বাজার-সদাই এবং অন্যান্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের সঙ্কট দেখা দেওয়ায় অনেক রান্নার কর্মীই বড় পরিসরে রান্নার দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, মা তারার ভোগ সাধারণত কাঠের জ্বালানিতেই প্রস্তুত করা হয়। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য রান্না করতে গেলে মাঝেমধ্যে গ্যাসেরও প্রয়োজন পড়ে। এখন গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় পুরো রান্নার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এত পরিমাণ কাঠের জ্বালানি জোগাড় করাও সহজ নয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনের ভোগ বা ভাণ্ডারার অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার অনুষ্ঠান বাতিল করার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ভক্তদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, তারাপীঠে ভোগ ও ভাণ্ডারা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা।
রান্নার কর্মী, বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল ও লজ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অন্যদিকে এই সঙ্কটের সময় মানবিক উদ্যোগের নজির গড়েছে ইসকনের শিলিগুড়ি শাখা। ইসকন শিলিগুড়ির জনসংযোগ আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাস জানান, রান্নার গ্যাসের ঘাটতির মধ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে শতাধিক মানুষের মধ্যে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে সাধারণ মানুষ যখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন, সেই সময় ইসকনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মানবিক এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই জানিয়েছেন সংস্থার জনসংযোগ আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাস

