নিজস্ব প্রতিবেদন :
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন আধিকারিকের পক্ষ থেকে গত ১৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে একটি বিস্তারিত প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচনের তারিখ, ভোটার সংখ্যা এবং নির্বাচনী বিধিনিষেধ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জনসাধারণের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছে।

১. নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে ৩০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ০৬ এপ্রিল, ২০২৬।মনোনয়নপত্র যাচাই : ০৭ এপ্রিল, ২০২৬।মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ভোট গ্রহণের তারিখ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভোট গণনা: ০৪ মে, ২০২৬
২. দার্জিলিং জেলার প্রশাসনিক কাঠামোয় রয়েছে ৯টি ব্লক এবং ৪টি মহকুমা। ২০২৬ সালের জন্য জেলার সম্ভাব্য জনসংখ্যা ধরা হয়েছে ১৭,৩৫,৯০৮ জন।
৩. ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী জেলার নির্বাচনী প্রোফাইল এইরকম :
মোট ভোটার: ১১,৪৮,২০৯ জন
লিঙ্গ অনুপাত: ১০০৬ (মহিলা ভোটার পুরুষের তুলনায় বেশি)
ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা: মোট ১৫১৭টি (১৪৬৫টি মূল এবং ৫২টি অতিরিক্ত বুথ)
ভোটগ্রহণের স্থান : ১০৫৪টি
বিশেষ ভোটার: ৭,৭৩৯ জন সার্ভিস ভোটার এবং ৭,৬৬২ জন প্রতিবন্ধী ভোটার।
দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ১,০৭,৭৩৪ জন,মহিলা ভোটার ১,০৯,৪৩৪ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন, মোট ভোটার ২,১৭,১৭০ জন।
কার্শিয়াং বিধানসভা এলাকায় পুরুষ ভোটার ১,০৮,৬৩৮ জন,মহিলা ভোটার ১,১২,৫৯৪ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩জন এবং মোট ভোটার ২,২১,২৩৫ জন।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে ১,৩৭,৮৮৯ জন পুরুষ ভোটার, ১,৩৯,১১১ জন মহিলা ভোটার, ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এবং সবমিলিয়ে মোট ভোটার ২,৭৭,০০৪ জন।
| শিলিগুড়ি বিধান সভা কেন্দ্রে ১,০১,৫৩৮ জন পুরুষ, ১,০১,৮৫০ জন মহিলা,১৭ জন তৃতীয় লিঙ্গ এবং সবমিলিয়ে ২,০৩,৪০৫ জন মোট ভোটার।
ফাঁসিদেওয়া বিধান সভা কেন্দ্রে ১,১৬,৬৩৮ জন পুরুষ ভোটার , ১,১২,৭৫৪ জন মহিলা ভোটার, ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এবং ২,২৯,৩৯৫ জন মোট ভোটার।
১৮-১৯ বছর বয়সী নতুন ভোটারের সংখ্যা ৮,৯৪৯ জন।
৪. নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণ দল, মিডিয়া সেল এবং ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ (MCC) সেল গঠন করা হয়েছে।শহর ও গ্রামীণ স্তরে অভিযোগ জানানোর জন্য ২৪x৭ টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৫০ চালু করা হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে জেলাজুড়ে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে।
৫। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ধারা ৭৭(১) অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নের দিন থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত খরচের সঠিক হিসাব রাখতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করা হলে প্রার্থি পদ বাতিল হতে পারে।
ধারা ১২৭এ অনুযায়ী, নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে প্রকাশক ও মুদ্রকের নাম-ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় জেল বা জরিমানা হতে পারে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭১এইচ ধারা অনুযায়ী, প্রার্থীর লিখিত অনুমতি ছাড়া তার প্রচারে টাকা খরচ করা অপরাধ। ১০ টাকার বেশি খরচ করলে ১০ দিনের মধ্যে প্রার্থীর অনুমতি নিতে হবে।
জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচন আধিকারিক জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

