নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচন মানেই ব্যস্ততা, প্রচার, রাজনৈতিক উত্তাপ—কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেই নীরবে তৈরি হয় এক ভয়াবহ সমস্যা, রক্তের সংকট। ভোট পর্বে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বহু মুমূর্ষু রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে—এই আশঙ্কাই তুলে ধরলেন শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট সমাজসেবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “নির্বাচন মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্যই ভোট। কিন্তু এই সময় যদি রক্তদান কমে যায়, তাহলে অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।”
ভারতের নির্বাচন কমিশন -এর নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী সরাসরি রক্তদান শিবির নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য অনেক সময় এই ধরনের শিবির আয়োজন নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে বাস্তবে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যায়।
এছাড়া প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণেও এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।তবে অতীতে দেখা গেছে, রক্তের ঘাটতি দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে রক্তদান শিবির আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, মানবিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এই ধরনের উদ্যোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে না—বরং সঠিক নিয়ম মেনে চালানো যায়।
এই পরিস্থিতিতে সমাজসেবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় সকলকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “রক্তদান একটি মহৎ দান। এতে যেমন অন্যের জীবন বাঁচে, তেমনই দাতার শরীর ও মনও ভালো থাকে।”
তিনি আরও জানান, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সুস্থ মানুষরা রক্তদান করতে পারেন। তাই নির্বাচন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মানবিক দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না—এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
ভোটের আবহের মধ্যেও যদি সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে রক্তদান করেন, তাহলে অনেক অমূল্য প্রাণ বাঁচানো সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল

