রামনবমী উপলক্ষে শিলিগুড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রার প্রস্তুতি, বাড়বে ভিড়—জানাল আর এস এস

নিজস্ব প্রতিবেদন :
সামনেই রামনবমী। প্রতি বছরের মতো এবছরও রামনবমী মহোৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শিলিগুড়িতে একটি বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এই আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবকরাও উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

শনিবার শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে আরএসএস-এর উত্তরবঙ্গ প্রান্ত সঙ্ঘ চালক হৃষীকেশ সাহা জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের রামনবমীর শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জনসমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাঁদের আশা।

এদিন শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় অবস্থিত মাধব ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৭ মার্চ রামনবমী পালিত হবে। বক্তারা বলেন, যে রাজ্যে সাধক হিসেবে পরিচিত রামকৃষ্ণ, গায়ক রামপ্রসাদ, সমাজ সংস্কারক রামমোহন, এবং যেখানে শ্রীরামপুর, রামরাজাতলা, রামপুরহাটের মতো স্থাননাম প্রচলিত—সেই বাংলায় ভগবান শ্রীরাম কোনোভাবেই বহিরাগত নন, বরং তিনি এই সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাঁদের মতে, অধর্মের বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর আবির্ভাব, আর ‘রাম’ নামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ন্যায়, সত্য ও সুশাসনের বার্তা।এছাড়াও সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, গত ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ হরিয়ানার পানিপথের নিকটবর্তী সমালখায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেই সভা শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে সভার মূল বিষয়গুলি তুলে ধরছেন। তারই অংশ হিসেবে এদিন শিলিগুড়িতে হৃষীকেশ সাহা সেই সভার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।
তিনি জানান, ওই প্রতিনিধি সভায় সংঘের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

পাশাপাশি, সন্ত শিরোমণি সদগুরু শ্রী রবিদাসজীর ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর কর্মময় জীবন, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করা হয়। গৃহস্থ জীবনযাপন করেও তিনি কীভাবে পার্থিব আসক্তি থেকে নিজেকে দূরে রেখে দীন-দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

তাঁর জীবনাদর্শ সমাজে শ্রমের মর্যাদা ও সৎ, শুদ্ধ জীবনযাপনের গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।সাংবাদিক বৈঠকে হৃষীকেশ সাহার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংঘের প্রান্ত প্রচার প্রমুখ সমীর কুমার ঘোষ এবং অন্যান্যরা।