ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের আড়ালে মদের ব্যবসার অভিযোগে উত্তেজনা, বিক্ষোভে সরব ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদন : শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের আড়ালে মদের দোকান চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে দোকানের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে সামিল হন শিলিগুড়ি রাজবংশী ক্ষেত্রীয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা।

এদিন বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দোকানের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তাঁদের অভিযোগ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের নাম ব্যবহার করে গোপনে মদের ব্যবসা চালানো হচ্ছে, যা স্থানীয় সামাজিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৪ সালেও একই স্থানে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান খোলা হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এবার ফের একই জায়গায় এমন উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ভক্তিনগর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শোভা সুব্বা ।

তিনি দোকানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
কাউন্সিলর জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিক বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বাইরে রয়েছেন, তিনি ফিরে এলে সকল পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবস্থান তুলে নেন এবং পরবর্তীতে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।এদিকে, শিলিগুড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমশ মদের দোকানের সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এসব দোকানে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ভিড় বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মদের বিক্রি চলতে থাকায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।