নিজস্ব প্রতিবেদন :
বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসব পয়লা বৈশাখকে ঘিরে নতুন জামাকাপড় কেনার ঐতিহ্য আজও অটুট। প্রতি বছরই নববর্ষকে সামনে রেখে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা নতুন সংগ্রহ নিয়ে প্রস্তুতি নেন। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন শপিং ও বড় বড় মলের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম প্রতিযোগিতার মুখে। তবুও হার মানতে নারাজ তারা—বরং নতুন কৌশল নিয়েই শুরু হয়েছে টিকে থাকার লড়াই।

চৈত্র সেল, আকর্ষণীয় ছাড় ও বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে ক্রেতাদের টানতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। অনেক এলাকায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু হয়েছে হোম ডেলিভারি পরিষেবাও। শিলিগুড়ির মহাবীরস্থান সংলগ্ন কালীবাড়ি রোড—এক সময়ের জমজমাট পুরনো বাজার—সেখানকার ব্যবসায়ীরাও এবার নতুনভাবে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন।
তবে সমস্যা একটাই—থানা মোড় থেকে রেলগেট পর্যন্ত প্রতিদিনের যানজট। এই যানজটের জেরে বহু ক্রেতাই সরাসরি দোকানে এসে কেনাকাটা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছে। শিলিগুড়ি কালীবাড়ি রোড ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দীপক চন্দ্র দে জানান, “আগে পয়লা বৈশাখের আগে এত ভিড় থাকত যে দম ফেলার সময় পাওয়া যেত না।
এখন সেই চিত্র নেই। ব্যবসা প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমে গিয়েছে।”তবে হতাশ না হয়ে ব্যবসায়ীরা এখন নতুন ভাবনায় এগোচ্ছেন। বিভিন্ন অফার, ছাড়ের পাশাপাশি হোম ডেলিভারি পরিষেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দীপকবাবুর কথায়, “অনলাইনে কেনাকাটায় আগে থেকেই পুরো টাকা দিতে হয়।
কিন্তু আমাদের এখানে ক্রেতারা অনেক সময় বাকিতেও জিনিস নিতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে পণ্য বদলাতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, অথচ স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটা করলে সহজেই বদল করা যায়।”
এই প্রেক্ষাপটে দীপক চন্দ্র দে-র ৫৮ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান ‘শিলিগুড়ি হোসিয়ারী হাউস এন্ড রেডিমেড গার্মেন্টস’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কালীবাড়ি রোডে অবস্থিত এই দোকানে পুরুষদের গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া থেকে শুরু করে মহিলাদের ব্রা, পেন্টি—সবই পাওয়া যাচ্ছে।
পাশাপাশি রয়েছে মোজা ও বিভিন্ন হোসিয়ারি পণ্য। বিশেষ করে “উত্তম কুমার গেঞ্জি”-র চাহিদা নাকি এখনও বেশ তুঙ্গে।
বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানেও যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল পরিষেবা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে অনলাইন পেমেন্ট করেও পণ্য বুক করা যাচ্ছে, এবং সুবিধামতো হোম ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগের নম্বর: 9475961343।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক—উদ্ভাবনী ভাবনা ও গ্রাহককেন্দ্রিক পরিষেবার মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীরা নতুন করে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাইছেন। আর এই লড়াইয়ের গল্পই তুলে ধরছে ‘খবরের ঘন্টা’—যেখানে প্রতিটি ব্যবসায়ীর প্রচেষ্টা ও সম্ভাবনার কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার সুযোগ।

