মায়ের মৃত্যুসংবাদেও থামেনি মানবিকতা— ত্রাণ বিলি চালিয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন সমাজসেবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ির বিশিষ্ট সমাজসেবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মা নবনীতা চ্যাটার্জী ২৬ মার্চ বিকেলে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।ঘটনার দিনই সন্ধ্যায় এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র সামনে আসে।

ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন তেলিপাড়ায় হতদরিদ্র স্কুলছাত্রী পূজা ঘোষের পরিবারের কাছে মরীচিকা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন সোমনাথবাবু। সেই সময়ই হঠাৎ ফোনে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পান তিনি।

তবে এমন গভীর শোকের মুহূর্তেও নিজেকে সংযত রেখে মানবিক দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি তিনি। পূজার মতো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণের কাজ শেষ করেন। তাঁর এই মানসিকতা উপস্থিত সকলকেই আবেগাপ্লুত করে।

অন্যদিকে, প্রাক্তন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য ও সমাজসেবী শেখর সাহা পূজার পরিস্থিতির কথা জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নজরে আনেন।নজরে আনা হয়েছে কলকাতার রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিটির।বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ তেলিপাড়ায় পৌঁছে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পূজাদের ঘরের টিনের ছাউনি মেরামত এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এদিন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে তিনি সারা জীবন নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন, এমনকি ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও কেন দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি।

জবাবে তিনি বলেন, “মানুষের সেবা করলে আমার ঘুম ভালো হয়। গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমি নিজেও ভালো থাকি।”এই মানবিক দর্শনই তাঁকে বার্ধক্যেও অবিচলভাবে সমাজসেবার কাজে অনুপ্রাণিত করে চলেছে, যা বর্তমান সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমনাথবাবুর পরিবার মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেছে। তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবারই নবনীতা চ্যাটার্জীর দুটি চোখ মেডিকেল কলেজে দান করা হয়েছে, যা মানবিকতার এক উজ্জ্বল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।