নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন নরেশ মোড়ের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অসাধারণ কৃতিত্বের নজির গড়েছে মেধাবী ছাত্রী মিনু রায়। বাবা পেশায় সবজি বিক্রেতা, আর সেই পরিবারের মেয়েই আজ চিকিৎসক হওয়ার পথে প্রথম বড় ধাপ পেরিয়ে ফেলেছে। স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো বাধাই জয় করা সম্ভব—মিনুর সাফল্য যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

সম্প্রতি নিট ইউজি পরীক্ষায় সফল হয়ে মিনু রায় ভর্তি হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে। তার এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকা। শিলিগুড়ির ঘোঘোমালি গার্লস হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী মিনুকে কয়েকদিন আগেই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই স্কুলে পড়াশোনা করে বহু অনগ্রসর ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়ে। নানা সমস্যার মধ্যেও বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা নিজেদের উদ্যোগে ছাত্রীদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শিক্ষিকারা নিজেরাই চাঁদা তুলে ছাত্রীর পড়াশোনার খরচ বহন করছেন, যা নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীর অভাব থাকা সত্ত্বেও শিক্ষিকারা নিজেদের বেতনের টাকা থেকে কর্মী নিয়োগ করে স্কুল পরিচালনা করছেন। বর্তমানে টিচার-ইনচার্জ শ্রীপর্না মিত্র মজুমদার জানান, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ছাত্রী এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি এখনও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে এগোলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণিতে যারা প্রথম স্থান অধিকার করছে, তাদের ফি-ও অনেক সময় শিক্ষিকারা নিজেরাই বহন করছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজে এক অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে।মিনু রায়ের সাফল্য যেমন ব্যক্তিগত লড়াইয়ের জয়গান, তেমনই এই স্কুল ও শিক্ষিকাদের নিরন্তর প্রচেষ্টারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

