নিজস্ব প্রতিবেদক :
গুড ফ্রাই ডে—খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক গভীর তাৎপর্যময় দিন। এই দিনেই স্মরণ করা হয় যিশুখ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়াকে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে জেরুজালেমের কাছে গোলগোথা পাহাড়ে তাঁর আত্মত্যাগ মানবজাতির ইতিহাসে এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে রয়েছে—ভালোবাসা, ত্যাগ এবং সর্বোপরি ক্ষমার।

জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও যিশুখ্রিস্ট যে বাণী উচ্চারণ করেছিলেন—”ফাদার,ফরগিভ দেম,ফর দে নো নট হোয়াট দে ডু”–তা আজও মানবসমাজের কাছে এক অমূল্য শিক্ষা। যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, তাঁদের প্রতিও তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এই বার্তাই মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত শক্তি প্রতিশোধে নয়, ক্ষমাতেই নিহিত।
আজকের বিশ্বপরিস্থিতিতে এই শিক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মানবসভ্যতার ইতিহাস জুড়ে সংঘাত, হিংসা ও বিভেদের যে চিত্র আমরা দেখি, তার বিপরীতে যিশুখ্রিস্ট দেখিয়েছিলেন ভালোবাসা ও সহমর্মিতার পথ। ক্ষমার মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের মনকে মুক্ত করতে পারে এবং গড়ে উঠতে পারে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
বর্তমান সময়ে ইজরায়েল -সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত গোটা বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যে ভূমি একসময় শান্তি ও ভালোবাসার বার্তায় মুখর ছিল, আজ সেখানেই অশান্তি ও রক্তপাতের দৃশ্য মানবতাকে নাড়া দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গুড ফ্রাই ডে-র মূল বার্তা—যুদ্ধ নয়, শান্তি এবং ক্ষমাই হোক পথ—নতুন করে ভাবতে শেখায়।
এই ভাবনাকেই সামনে রেখে ৩ এপ্রিল শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া থেকে সঙ্গীতশিল্পী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। গুড ফ্রাই ডে উপলক্ষে তিনি যিশুখ্রিস্টের জীবনাদর্শ, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইজরায়েলের প্রেক্ষাপট, এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গভীর বার্তা তুলে ধরেন।
শুধু বক্তব্যেই থেমে থাকেননি অনিন্দিতাদেবী, গুড ফ্রাই ডে স্মরণে একটি আবেগঘন সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শান্তির আহ্বান, মানবিকতার ডাক এবং ক্ষমার অসীম শক্তির কথা।সব মিলিয়ে, গুড ফ্রাই ডে-র এই বিশেষ মুহূর্তে শিলিগুড়ি থেকে উঠে আসা এই উদ্যোগ এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়—ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই শেষ কথা; যুদ্ধ নয়, শান্তিই হোক মানবতার পথ।

