নতুন অর্থবর্ষে নতুন সিদ্ধান্ত—আজই শুরু হোক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পথচলা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
একটি নতুন অর্থবর্ষের সূচনা মানেই শুধু তারিখ বদল নয়, বরং নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ। ১লা এপ্রিল ২০২৬, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অর্থবর্ষকে ঘিরে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট আর্থিক উপদেষ্টা অভিজিৎ দাস। তাঁর মতে, “সময়কে কাজে লাগাতে পারলেই অর্থ আপনাকে কাজ করে দেবে”—আর সেই কারণেই বছরের শুরুতেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ায় অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠান বেটা ওয়ান– ইওর ফিনান্সিয়াল ডক্টর ইতিমধ্যেই বহু মানুষের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর সংস্থার ওয়েবসাইট www.betaone.in।⁠ অফিসটি পিসি সরনি,পাঠশালায়, রামোজি কাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট -এর বিপরীতে, এনটিএস মোড়ের কাছে, ওয়ার্ড নম্বর ২৯,শিলিগুড়ি –৭৩৪০০৪ । প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যেতে পারে 9641422925 নম্বরে।

অভিজিৎ দাসের কথায়, সঞ্চয় শুধুমাত্র টাকা জমিয়ে রাখা নয়, এটি ভবিষ্যতের সুরক্ষার এক নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। জীবনে অনিশ্চয়তা থাকবেই—হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরির অনিশ্চয়তা কিংবা জরুরি খরচ—এসব পরিস্থিতিতে সঞ্চিত অর্থই ভরসা জোগায়। পাশাপাশি সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা বা অবসর জীবনের মতো বড় লক্ষ্য পূরণেও সঞ্চয় অপরিহার্য।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেন, শুধু সঞ্চয় যথেষ্ট নয়। সময়ের সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে টাকার মূল্য কমে যায়। তাই টাকাকে বাড়াতে হলে প্রয়োজন সঠিক বিনিয়োগ। ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থের তুলনায় সঠিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকে।

এই প্রসঙ্গে SIP বা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান -এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিতভাবে অল্প অল্প করে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর। মাসে মাত্র ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়েও শুরু করা যায়।

বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি কমানো, বিনিয়োগে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা পাওয়া—এই সবকিছুর জন্য SIP একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।নতুন অর্থবর্ষকে তিনি একপ্রকার রিসেট পয়েন্ট “reset point” হিসেবেই দেখছেন। বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করলে সারা বছর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়।

পাশাপাশি কর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও ধীরে-সুস্থে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া যায়, যা বছরের শেষে হঠাৎ চাপ তৈরি করে না।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন সময়ের মূল্য। যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করা যায়, তত বেশি সময় পাওয়া যায় সেই অর্থকে বৃদ্ধি করার জন্য। দেরি করলে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।

অভিজিৎ দাসের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এমনকি এক সাধারণ দুধ বিক্রেতাও তাঁর পরামর্শ মেনে বিনিয়োগ করে আজ আর্থিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন—যা তাঁর দক্ষতার একটি বাস্তব উদাহরণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, সঞ্চয় দেয় নিরাপত্তা, বিনিয়োগ এনে দেয় উন্নতি—আর SIP এই দুইয়ের মধ্যে তৈরি করে এক কার্যকর সেতুবন্ধন। নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭ তাই হতে পারে আপনার আর্থিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
অভিজিৎ দাস এই বিষয়ে আরও কী বলছেন, তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য জানতে চোখ রাখুন এই ভিডিওতে