নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল “ড্রাগ ফ্রি ডুয়ার্স ডে”। গুড ফ্রাইডে উপলক্ষে দিনটি জাতীয় ছুটি থাকায়, সেই সুযোগকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে ডুয়ার্স দিবস উদযাপন সমিতি আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণসংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করে।

এই প্রসঙ্গে উদযাপন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা: পার্থ প্রতিম জানান, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা ক্ষেত্রে ডুয়ার্স অঞ্চল এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। একসময়ের প্রধান ভরসা চা শিল্প আজ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য শিল্পোন্নয়ন না হওয়ায় জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন বহু যুবক-যুবতী ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এরই মধ্যে একাংশ তরুণ প্রজন্ম নেশার কবলে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।এই সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে ডুয়ার্সের একাধিক লায়ন্স ক্লাব। প্রাক্তন গভর্নর কেদার গজমীর মতে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সেই কারণেই তাঁরা নিজ নিজ স্তর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।ময়নাগুড়ির রাধিকা লাইব্রেরীর অন্যতম কর্ণধার স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, শুধুমাত্র সংস্থা নয়, পরিবার থেকেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি—অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বানারহাট নির্মলা একাডেমির কর্ণধার অনিন্দিতা দাসের মতে, যোগব্যায়াম নেশা থেকে দূরে থাকার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। নাগরাকাটা সাংস্কৃতিক মঞ্চের কর্ণধার কেয়া ব্যানার্জি জানান, নেশাজনিত সমস্যায় মহিলারা তুলনামূলকভাবে বেশি ভুক্তভোগী হন, তাই তাঁদের এগিয়ে আসা বিশেষ প্রয়োজন।
কামাখ্যাগুড়ির সংগীত শিল্পী অলোক কুন্ডু মনে করেন, ডুয়ার্সকে নেশামুক্ত করার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বীরপাড়ার লায়ন্স ক্লাবের সঞ্জয় জৈন জানান, তাঁদের বিভিন্ন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, বিশেষ করে চা বাগান এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন সীমান্ত পেরিয়েও পৌঁছেছে। ভার্জিনিয়ার মানাসাসে বসবাসকারী ডুয়ার্সের সন্তান তথা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুব্রত গুহ এবং বর্তমানে চণ্ডীগড়ে থাকা ডক্টর ভুপেন রসাইলিও তাঁদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।
বানারহাট লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রশিক্ষণ শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের নারকোটিক্স ডিরেক্টর দিলীপ রবিদাস। এই অনুষ্ঠানে ডুয়ার্স ডে উদযাপন সমিতির পক্ষ থেকে নেশা সংক্রান্ত তথ্যসমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধনও করা হয়।
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলা, হিন্দি ও সাদরি ভাষায় নেশার ধরন, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য সাধারণ মানুষ মোবাইল বা ল্যাপটপের সাহায্যে সহজেই জানতে পারবেন।নির্বাচনের আবহে যখন চারদিক রাজনৈতিক ব্যস্ততায় মুখর, তখনও একদল মানুষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছে—এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

