অনলাইনকে টেক্কা দিতে ডিজিটাল প্রচারে জোর, শিলিগুড়ির মহাবীরস্থানে খুচরা ব্যবসায়ীদের নতুন লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অনলাইন কেনাকাটার বাড়বাড়ন্তের মাঝেই এবার পাল্টা কৌশল নিচ্ছেন শিলিগুড়ির খুচরা ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বেশি করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা। লক্ষ্য একটাই—অনলাইন শপিংয়ের সঙ্গে টক্কর দিয়ে আবারও বাজারে ক্রেতার ভিড় ফেরানো।

শিলিগুড়ির মহাবীরস্থানের বহু পুরনো বস্ত্র ব্যবসা একসময় পয়লা বৈশাখের আগে জমজমাট থাকত। নতুন বছরের কেনাকাটাকে ঘিরে দোকানগুলিতে উপচে পড়ত ভিড়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে অনলাইন শপিং এবং বড় শপিং মলের প্রভাবে ব্যবসা কার্যত মন্দার মুখে।

শিলিগুড়ি মহাবীরস্থান ব্যবসায়ী এলায়েন্সের সভাপতি ঝাওরমল আগরওয়ালা এবং সম্পাদক মাধব ঘোষ জানান, আগের তুলনায় তাঁদের ব্যবসা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ক্রেতাদের বড় অংশ এখন অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন, যা তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁদের মতে, অনলাইন কেনাকাটার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আগাম সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হয়, অনেক সময় পছন্দমতো সাইজ বা রং না মেলায় সমস্যায় পড়তে হয়, আর সেই পণ্য বদল করাও বেশ ঝামেলার। অন্যদিকে, স্থানীয় দোকান থেকে কিনলে ক্রেতারা নিজের হাতে জামাকাপড় দেখে, ছুঁয়ে, যাচাই করে কিনতে পারেন—যা এখনও বড় সুবিধা।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নতুন পথের খোঁজ করছেন। তাঁরা ভাবছেন নিজেদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেশজুড়ে পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে। সভাপতি ঝাওরমল আগরওয়ালা জানান, তাঁরা পাইকারি দামে শাড়ি ও বস্ত্র বিক্রি করেন। নতুন প্রজন্মের যারা বর্তমানে ডেলিভারি বয়ের কাজ করছেন, তাঁরা চাইলে এখান থেকে কম দামে পণ্য কিনে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করে নিজেরাই স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন।

অন্যদিকে সম্পাদক মাধব ঘোষের বক্তব্য, যদি মানুষ অনলাইন নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন, তাহলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধজনিত কারণে বস্ত্রের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবুও ক্রেতাদের কথা ভেবে চৈত্র সেলে বিশেষ ছাড় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি শুরু হয়েছে হোম ডেলিভারির সুবিধাও। আসন্ন নববর্ষ উপলক্ষে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, যাতে আবারও ক্রেতারা মুখ ফেরান মহাবীরস্থানের ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলির দিকে।