নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ির মধ্য চয়নপাড়ার রমনী সাহা মোড়ে অবস্থিত ছোট্ট অথচ পরিচিত এক নাম—গনেশ ভাণ্ডার। একটি সাধারণ মুদিখানা দোকান হলেও এখানেই মেলে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিস—সুঁচ থেকে শুরু করে চাল, ডাল, সরষের তেল, আইসক্রিম, চকোলেট—সবকিছুই এক ছাদের নিচে।

এই দোকানের শিকড় বহু বছরের পুরনো। স্থানীয় রমনী মোহন সাহা পয়লা বৈশাখের দিনই এই ব্যবসার সূচনা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আজও প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করা হয়। দোকানের বর্তমান কর্ণধার টোটোন সাহা জানান, এবছরও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে পুজো, নতুন বছরের বাংলা ক্যালেন্ডার বিতরণ এবং ক্রেতাদের মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টোটোনবাবুর কথায়, তাঁদের দোকানের বিশেষত্বই হল—এখানে পাঁচ টাকা বা দশ টাকার মতো ছোটখাটো জিনিসও সহজেই পাওয়া যায়, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অসম্ভব। শুধু ব্যবসা নয়, এলাকার মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাড়ার বিভিন্ন উৎসব বা পূজার সময় চাঁদার জন্য প্রায়ই স্থানীয় দোকানগুলির ওপর চাপ পড়ে। কিন্তু বড় বড় অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে এমন কোনো চাপ তৈরি হয় না—এই বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় মুদিখানা দোকান থেকে কেনাকাটার সুবিধার কথাও মনে করিয়ে দেন টোটোন সাহা। এখানে ক্রেতারা জিনিস হাতে নিয়ে দেখে কিনতে পারেন, প্রয়োজন হলে বাকিতেও কেনাকাটা করা যায়—যা অনলাইন কেনাকাটায় সম্ভব নয়।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন গনেশ ভাণ্ডার হোম ডেলিভারির সুবিধাও চালু করেছে।
প্রয়োজন হলে ৭৬৭৯৭৯৮৭২৫ নম্বরে যোগাযোগ করে অর্ডার দিলে ক্রেতাদের বাড়িতেই প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।পুরনো দিনের বিশ্বাস আর নতুন সময়ের পরিষেবার মেলবন্ধনে গনেশ ভাণ্ডার আজও এলাকার মানুষের কাছে এক ভরসার ঠিকানা হয়ে রয়েছে।

